ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেল-সড়ক অবরোধ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেটের ট্রেন চলাচল বন্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম পুনর্বহাল এবং সদর উপজেলাকে বিভক্ত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে রেল ও সড়কপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ দুই রেলপথে কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনের চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অবরোধকারীরা কোড্ডা কেবিন এলাকায় রেলপথের পাশাপাশি আখাউড়া স্থলবন্দর সড়কও অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। এতে পারাবত, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর ও সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, অবরোধের কারণে সিলেটগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছে। এ ছাড়া কক্সবাজারগামী বিরতিহীন আন্তঃনগর পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটিও নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল ভেঙে ‘বরিশল’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। পরে ইউনিয়নটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে ওই বছরের ৪ জুন গেজেট প্রকাশিত হয়।
বাসুদেব ইউনিয়নবাসী শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। তবে তাদের দাবি, এখনো এ বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। এর মধ্যে সম্প্রতি সদর উপজেলার আরও তিনটি ইউনিয়ন—বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ভেঙে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা বরিশল ইউনিয়নের সঙ্গে একীভূত করে ‘বরিশল’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ প্রস্তাবের নেপথ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ আহমেদ ভূঁইয়া। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর প্রতিবাদেই তারা রেল ও সড়কপথ অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন।
এদিকে অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, জানমালের কোনো ক্ষতি যাতে না হয়, সে জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।