কুতুবদিয়া-মগনামা ঘাটে জিয়ারতকারীদের ওপর হামলা, নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রী ও পর্যটকরা
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া-মগনামা নৌঘাটে ঐতিহ্যবাহী কুতুব শরীফ দরবার জিয়ারত করতে আসা ভক্ত ও মেহমানদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বোটের মালিক ও কয়েকজন শ্রমিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঘটে যাওয়া এই হামলায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুবদিয়া থেকে মগনামা যাতায়াতের সময় ঘাটের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি ও ইজারাদারদের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ জানান জিয়ারত করতে আসা কয়েকজন মেহমান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বোটের মালিক ও ঘাটে অবস্থানরত ৫-৬ জন শ্রমিক দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় যাত্রীরা জানান, এই ঘাটে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বহুবার সাধারণ যাত্রী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের সঙ্গে অসাধু কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং নৌযান পরিচালনায় অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এর আগে গত জুলাই মাসেও এই নৌপথে ঝুঁকিপূর্ণ ও অননুমোদিত নৌযান চলাচল এবং অবকাঠামোগত বেহাল দশা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সবশেষ হামলার ঘটনার পর থেকে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘাট কেন্দ্রিক এই বেপরোয়া অনিয়ম ও নিরাপত্তাহীনতা নিরসনে সচেতন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ এবং কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.টি.এম. নুরুল বশর চৌধুরীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ঘাটে সর্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, অতিরিক্ত ভাড়া ও হয়রানি বন্ধ, নৌযানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুরো ঘাট এলাকা সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, অনাকাঙ্ক্ষিত এই হামলার ঘটনায় কুতুব শরীফ দরবার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার, পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং কুতুবদিয়া থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুতুবদিয়া দরবার শরীফ কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটি পেকুয়া ও কুতুবদিয়া থানা পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
উল্লেখ্য, কুতুবদিয়া কেবল একটি উপকূলীয় উপজেলাই নয়, এটি দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন অঞ্চল। হযরত মালেক শাহ (রহ.)-এর দরবার শরীফে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ জিয়ারতে আসেন। পাশাপাশি কুতুবদিয়া সমুদ্র সৈকত, ঐতিহাসিক বাতিঘর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের যাতায়াতের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই কুতুবদিয়া-মগনামা নৌপথ। সচেতন মহলের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশদ্বারে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার অভাব থাকলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।