০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:১২

কুয়াকাটা সৈকতে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কুয়াকাটা সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর  © সংগৃহীত

কলাপাড়ার পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব রাখতে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে পরিবেশ অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযানে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক), স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ধূমকেতু, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা), অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী এবং ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।

সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। এ সময় সৈকত থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করা হয়। পরে জিরো পয়েন্টে পরিচ্ছন্নতা-সচেতনতামূলক স্লোগানসংবলিত সাইনবোর্ড ও ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক, টোয়াকের সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ, উপরা’র আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু, কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নেছার উদ্দিন হাওলাদার এবং কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামিম রেজা প্রমুখ।

কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নেছার উদ্দিন হাওলাদার বলেন, পরিচ্ছন্ন কুয়াকাটা গড়ে তুলতে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু এক দিনের অভিযান দিয়ে সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ কাজে তারা সব সময় সহযোগিতা করতে চান।

টোয়াকের সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পের প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত। সৈকত অপরিচ্ছন্ন থাকলে পর্যটকদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যায়। তাই পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পর্যটকদেরও যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, কুয়াকাটাকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু পৌরসভার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

পরিবেশ অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক লোভানা জামিল বলেন, কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকতে রূপান্তর করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন সৈকত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই লক্ষ্যেই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি জিরো পয়েন্টে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড ও ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।