ফেসবুকে চেয়েছিলেন ক্ষমা, না ফেরার দেশে সাবেক স্কুলশিক্ষক
নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছয় দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছিলেন মো. রাকিবুল হাসান লিটন। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও দুটি ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে কথা ও আচরণে জেনে-অজান্তে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। সেই পোস্টের ছয় দিন পরই না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে মারা যান রাকিবুল হাসান লিটন। তার এক আত্মীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সবার কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, করোনাকালীন সময়ে শেরপুরের শ্রীবরদী এ.আর.কে. আইডিয়াল স্কুলে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করতেন লিটন। পরে শিক্ষকতা ছেড়ে ঢাকায় আরএফএল কোম্পানিতে চাকরি নেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় এক দুর্ঘটনায় আহত হন তিনি। দুর্ঘটনার পর তার দুই পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার দুটি কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
লিটন শ্রীবরদী উপজেলার নিজমামদামাড়ী ফকিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের ভাগনে। তার বাবার নাম মো. আতাহার। জন্মের পর থেকেই মামার বাড়িতে বেড়ে ওঠেন তিনি। তার পৈতৃক বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চন্দনপুর গ্রামে।
মৃত্যুর ছয় দিন আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে লিটন জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন তিনি। ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে দুটি ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন দিন ধরে পানি ছাড়া অন্য কিছু খেতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেছিলেন। পোস্টের শেষাংশে তিনি লিখেছিলেন, কথা বা আচরণে জেনে-অজান্তে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে যেন তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন অনেকেই। সাবেক সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনেরা তার স্মৃতিচারণ করে আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।