০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২২:১০

খালের ওপর অনুমোদনহীন কোচিং সেন্টার, পাটাতন ভেঙে আহত ৩০ শিক্ষার্থী

ঝুঁকিপূর্ণ কোচিং সেন্টারটির পাটাতন ভেঙে আহত ৩০ শিক্ষার্থী  © সংগৃহীত

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের কাজীরহাটে খালের ওপর কাঠের পাটাতন দিয়ে তৈরি একটি কোচিং সেন্টারের মেঝে ভেঙে অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কাজীরহাট বাজারের পশ্চিম পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিন শিক্ষার্থীর অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর। দুর্ঘটনার পর কোচিং সেন্টারের পরিচালক নিজাম উদ্দীন এলাকা ছেড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজীরহাট বাজারের পশ্চিম পাশে সড়কের পাশে একটি খালের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে টিনশেডের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ওই ঘরেই কোচিং সেন্টারটি পরিচালিত হতো। ঘরটির মালিক সন্তোষপুর গ্রামের কবির সরদার। সন্তোষপুর নেছারিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রভাষক নিজাম উদ্দীন তাঁর সহযোগীদের নিয়ে সেখানে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, গণিত ও আইসিটি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলেও কোচিং সেন্টারটিতে ক্লাস চলছিল। সন্ধ্যার দিকে সেখানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ কাঠের পাটাতন ভেঙে গেলে শিক্ষার্থীরা নিচে পড়ে যায়। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিব, অষ্টম শ্রেণির তালেব ও পঞ্চম শ্রেণির মুসার অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর বলে জানা গেছে। তাদের কাজীরহাট ইসলামিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য আহত শিক্ষার্থীরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খালের ওপর কাঠের পাটাতন দিয়ে তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ একটি ঘরে একসঙ্গে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীকে পাঠদান করানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কোচিং সেন্টারে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. মজনু ব্যাপারী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় পাঠদান করা উচিত হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও মাদ্রাসার প্রভাষক নিজাম উদ্দীন বলেন, ঘরটির কাঠের পাটাতনে কিছুটা সমস্যা ছিল। সংস্কারের জন্য ঘরমালিককে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে তিনি সংস্কার না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা কিছুটা ভয় পেয়েছে, তবে কেউ গুরুতর আহত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।