হাজিরা খাতা নিয়ে বিরোধ, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারকে মারধরের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুনিয়া চাঁদপুর সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আবু বক্কর সিদ্দিককে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের গণিত শিক্ষক ইকবালের বিরুদ্ধে। হাজিরা খাতাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে। এদিকে, মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে পুলিশ।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২ নভেম্বর) শিক্ষকদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হাজিরা খাতা নিজের কক্ষে রাখেন ভারপ্রাপ্ত সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক। এ সময় মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতা সুপারের কক্ষে দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হন গণিত শিক্ষক ইকবাল। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত সুপারকে গলাধাক্কা ও মারধর করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালেও মাদ্রাসায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভারপ্রাপ্ত সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, কয়েকজন শিক্ষকের নিয়মিত দেরিতে মাদ্রাসায় আসার প্রবণতা ঠেকাতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে তাঁর অনুমতি নিয়ে হাজিরা খাতা নিজের কক্ষে রেখেছিলেন তিনি। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে শিক্ষক ইকবাল তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে গলাধাক্কা দিয়ে মারধর করেন। তাঁর অভিযোগ, মঙ্গলবার মাদ্রাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে তাঁকে আবারও মারধর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক ইকবাল প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের পরে মাদ্রাসায় আসতেন। এ-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণও তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত গণিত শিক্ষক ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি।
এদিকে, মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।