পুলিশ পরিচয়ে মহিষ ডাকাতি, ছাত্রদল সভাপতিসহ গ্রেফতার ৫
মৌলভীবাজারে পুলিশ পরিচয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষবাহী পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম অভি ও ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া পিকআপটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৬ নম্বর একাটুনা ইউনিয়নের রায়শ্রী এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার নজরুল ইসলাম অভি ৭ নম্বর চাঁদনীঘাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি।
গ্রেফতার অন্যরা হলেন বাউরঘড়িয়া (চানগাঁও) এলাকার শাহিন ড্রাইভারের ছেলে মেহেদী হাসান মুন্না (২৬), ৮ নম্বর কনকপুর ইউনিয়নের নাগরা-বালিয়াকান্দি এলাকার মৃত সুন্দর মিয়ার ছেলে ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়া (২৬), পশ্চিম মোস্তফাপুরের আর রউফের ছেলে রাহেল মিয়া (২৩) এবং বাহারমর্দন এলাকার আরব আলীর ছেলে সম্রাট মিয়া (২৮)। নজরুল ইসলাম অভি (২৬) সাবিয়া গ্রামের বুদু মিয়ার ছেলে। গ্রেফতার সবাই মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বাসিন্দা মো. শহীদ মিয়া কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার থেকে চারটি মহিষ কিনে পিকআপে করে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের রায়শ্রী এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল ডাকাত পিকআপটির গতিরোধ করে। এ সময় তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া (৪২) গত ১৯ অক্টোবর মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে মৌলভীবাজার পৌরসভার মনু ব্যারেজ এলাকা থেকে খালি পিকআপটি উদ্ধার করে।
পরে ১ নভেম্বর সদর থানা ও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে মেহেদী হাসান মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ছাত্রদল নেতা নজরুল ইসলাম অভিসহ চক্রের অন্য সদস্যদেরও গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জুমন মিয়ার নেতৃত্বে নজরুল ইসলাম অভিসহ সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে পিকআপটির পিছু নেয় তারা। পরে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি ছিনতাই করে। মহিষগুলো বালিয়াকান্দি খেয়াঘাটসংলগ্ন একটি জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে পরদিন সিলেটে নিয়ে বিক্রি করে। পরে বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় চক্রের সদস্যরা।
গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করা হলে রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়া ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে এসআই রিপটন পুরকায়স্থ, এসআই আশরাফুল আলম চৌধুরী, এসআই জয়ন্ত সরকার, এসআই আবু সাঈদ মোহাম্মদ তৌহিদ ও এএসআই রানা মিয়াসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়।
এ ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘পরে কথা বলছি’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।