৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫৩

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি, অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠনের আহ্বান

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন   © সংগৃহীত

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬০ ডলার (৩২ হাজার টাকা) নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন (এনজিডব্লিউএফ)। এ দাবিতে অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন এবং মজুরি পুনর্নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত গার্মেন্টস শ্রমিক মজুরি র‌্যালি থেকে এ দাবি জানানো হয়।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিনের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা মো. কবির হোসেন, আরিফা আক্তার, জেসমিন বেগম, আলেয়া বেগম, রবিউল চৌধুরী, মো. রিয়াদ হোসেন, শাহ আলম, মনিরা মুন্নি, তানজিনা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার প্রমুখ। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। অথচ দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের মজুরি আন্তর্জাতিক তুলনায় অত্যন্ত কম। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে চাল, ডাল, বাড়িভাড়া, যাতায়াতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি।

বক্তারা আরও বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি পোশাকশ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। উন্নয়নশীল দেশের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান নিশ্চিত করা জরুরি। ন্যায্য মজুরি শুধু শ্রমিকের অধিকার নয়, এটি শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, উৎপাদনশীলতা, কর্মস্পৃহা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িত।

মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩৯ ধারায় আগে প্রতি পাঁচ বছর পরপর মজুরি নির্ধারণের বিধান ছিল। ২০২৬ সালের সংশোধিত বিধান অনুযায়ী এ সময়সীমা কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সেই হিসাবে চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু অক্টোবর মাস শেষ হতে চললেও এ বিষয়ে সন্তোষজনক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাই অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬০ ডলার নির্ধারণের দাবি জানান তাঁরা।

এ সময় আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনার ক্ষেত্রে এমন ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে উৎপাদন ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। কম ক্রয়মূল্য যেন শ্রমিকদের মজুরি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়েও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও বায়ারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

সমাবেশ থেকে বাংলাদেশের সব পোশাক ক্রেতা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মাসিক মজুরি ২৬০ ডলার নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।