বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির দাফন সম্পন্ন
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার বাবা একেএম এনায়েতুল করিম হেলাল দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে উত্তরার বাসায় যান।
এদিকে তাহসিফ সাউরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া মরদেহের পেট ফোলা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তাহসিফ সাউরির মরদেহ শনাক্ত করেন তার খালাতো ভাই জহির হাসান। মরদেহের মাথার চুল কালো, উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। কপাল স্বাভাবিক এবং মুখমণ্ডল গোলাকার। মুখ ও চোখ বন্ধ ছিল। মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। তার দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো অবস্থায় ছিল। নাক দিয়ে রক্ত বের হয়েছিল। তবে শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শরীরের সব অঙ্গ স্বাভাবিক ছিল। পেট ফোলা ছিল এবং দুই হাতের মুষ্টি খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরেন তাহসিফ সাউরি। কিছু সময় পর এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে বাসা থেকে বের হন তিনি। পরদিন ২৮ অক্টোবর তিনি শেষবারের মতো ‘আসছি’ লিখে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি।
পরে বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।