২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২:০৫

পাবনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম নিয়ে সভা

পাবনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সভা  © সৌজন্যে প্রাপ্ত

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ১৩ হাজার কোটি টাকার দুটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের কার্যকর প্রচার, সম্প্রসারণ ও সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাবনায় টাউন হল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম সম্পর্কে কৃষি ও এসএমই উদ্যোক্তাদের অবহিত করা এবং ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের কার্যকর সংযোগ স্থাপনই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান, বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহীর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালী এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ ফজলুল করিম,আপনার চেম্বার অফ কমার্সের ডিরেক্টর হারুনর রশিদ। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু ছাঈদ মুহাম্মদ ইদ্রিস। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পাবনা শাখা এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয় লিড ব্যাংক হিসেবে যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করে।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং বিশেষভাবে উত্তরবঙ্গের কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আরও ৩ হাজার কোটি টাকার পৃথক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম ঘোষণা করেছে।

বক্তারা বলেন, কৃষি ও এসএমই খাতে অর্থায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন শিল্পোদ্যোগ সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক কৃষি হাব গড়ে তোলা গেলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তাঁরা আরও বলেন, কৃষি ও এসএমই উদ্যোক্তারা এসব পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার ঘটাতে পারবেন। এর ফলে উদ্যোক্তারা যেমন নিজেদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবেন, তেমনি নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে দেশের ৪৩টি তফসিলি ব্যাংক এবং উত্তরবঙ্গের জন্য ঘোষিত ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বাস্তবায়নে ৩৯টি তফসিলি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে যোগ্য কৃষি ও এসএমই উদ্যোক্তারা নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিনিয়োগ মঞ্জুরিপত্র ও চেক বিতরণ। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এবং পাবনা এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নির্বাচিত ২৭ জন কৃষি ও এসএমই উদ্যোক্তার মধ্যে মোট ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতাধীন বিনিয়োগ মঞ্জুরিপত্র ও চেক বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ অর্থায়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাঁদের বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন কৃষি ও শিল্প উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবেন। এতে পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সভায় পাবনা এলাকায় কর্মরত বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও শাখা ব্যবস্থাপক এবং তিন শতাধিক কৃষি ও এসএমই উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা কৃষি ও এসএমই খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, অর্থায়ন সুবিধা সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের সচেতন করা এবং যোগ্য উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা গেলে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমগুলোর সুফল আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

সভায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পের উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং টেকসই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত পুনঃঅর্থায়ন স্কিম দুটির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।