ঢাকা-বরিশাল ১৪১ কিমির ভাড়া ৪০০ টাকা, কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনের ৯৫ কিমির ৪২০০!
ঢাকা থেকে বরিশালের দূরত্ব প্রায় ১৪১ কিলোমিটার। এ পথে লঞ্চে যাতায়াতে ভাড়া প্রায় ৪০০ টাকা। অন্যদিকে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ৯৫ কিলোমিটার হলেও পর্যটকদের আসা-যাওয়ায় জাহাজভাড়া গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। দূরত্বের তুলনায় ভাড়ার এমন ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পর্যটক ও ভ্রমণপ্রেমীরা। তাদের অভিযোগ, জাহাজভাড়ার পাশাপাশি রিসোর্টের কক্ষভাড়া ও খাবারের খরচও পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের ভাড়া ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বৈঠক বসার কথা জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম।
তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে আজ বিকেল ৩টায় বৈঠক হবে। বৈঠকে আলোচনা শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।
পর্যটকদের অভিযোগ, টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার পর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাতায়াতের ব্যয় বেড়েছে। পর্যটন মৌসুমে সীমিত সময়ের জন্য দ্বীপটিতে ভ্রমণের সুযোগ থাকায় যাতায়াত, আবাসন ও খাবারের খরচ মিলিয়ে ভ্রমণ অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
লঞ্চভাড়ার সঙ্গে তুলনা
ভ্রমণপ্রেমীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে বরিশালের দূরত্ব প্রায় ১৪১ কিলোমিটার এবং লঞ্চভাড়া প্রায় ৪০০ টাকা। অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব প্রায় ৯৫ কিলোমিটার হলেও আসা-যাওয়ার জাহাজভাড়া ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।
তাদের প্রশ্ন, তুলনামূলক কম দূরত্বের সমুদ্রপথে যাতায়াতে এত বেশি অর্থ কেন ব্যয় করতে হবে? জাহাজের ধরন, পরিচালন ব্যয় ও সেবার মানে পার্থক্য থাকলেও ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
রিসোর্ট ও খাবারের দাম নিয়েও অভিযোগ
শুধু জাহাজভাড়া নয়, সেন্টমার্টিনে রিসোর্টের কক্ষভাড়া ও রেস্তোরাঁর খাবারের দাম নিয়েও অভিযোগ রয়েছে পর্যটকদের। তাদের দাবি, পর্যটন মৌসুমে চাহিদা বাড়ার সুযোগে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হয়। ফলে এক রাত দুই দিনের ভ্রমণে জনপ্রতি অন্তত ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে তাদের অনেকে আশঙ্কা করছেন। তবে প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করে যাতায়াত, আবাসন ও খাবারের ধরন এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর।
পর্যটকদের মতে, দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় এই দ্বীপে ভ্রমণ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে জাহাজের টিকিটের মূল্য, রিসোর্টের কক্ষভাড়া ও খাবারের মূল্যতালিকা তদারকি করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ভাড়া বা মূল্য আদায়ের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা
ভ্রমণপ্রেমীরা ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে নুসা পেনিদা দ্বীপে যাতায়াতের উদাহরণও টানছেন। তাদের দাবি, ওই রুটে দ্রুতগতির বোটে যাতায়াতের খরচ তুলনামূলক কম। তবে দুই দেশের নৌযানের ধরন, পরিচালন ব্যয় ও সেবার মান ভিন্ন হওয়ায় সঠিক তুলনার জন্য নির্ভরযোগ্য ভাড়ার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
পর্যটকদের অভিযোগ, যাতায়াত ও আবাসন ব্যয় বেশি হলে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণের আগ্রহ কমতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকে নজর
সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াত ব্যয় ও সেবার মান নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যকর নজরদারি চান পর্যটকেরা।