২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০০:১৯

স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন স্ত্রী

স্বামীকে কিডনি দান করলেন স্ত্রী   © সংগৃহীত

সংসার মানেই সুখ-দুঃখে একে অপরের পাশে থাকা। আর সেই ভালোবাসারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হালিমা খাতুন। স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করেছেন তিনি। বিরল এই আত্মত্যাগের ঘটনা এলাকায় প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

কিডনি গ্রহীতা কবির মীর উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের বাথানবাড়ি গ্রামের দেলোয়ার মীরের বড় ছেলে। এই দম্পতির সংসারে রয়েছে দুটি অবুঝ সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কবির মীর। পরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এতে কবির ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর জীবন বাঁচাতে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন।

এরপর থেকেই কিডনিদাতার সন্ধানে ছুটতে থাকে পরিবার। নানা চেষ্টা করেও যখন কোনো দাতা পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন স্বামীর জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসেন স্ত্রী হালিমা বেগম। স্বামীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

কবির মীরের ছোট ভাই রিয়াজ মীর জানান, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে রাজধানীর শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন তাঁর ভাই।

অবশেষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বিশিষ্ট কিডনি প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে হালিমা বেগমের একটি কিডনি সফলভাবে তাঁর স্বামী কবির মীরের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

স্বামীর জীবন বাঁচাতে হালিমার এই সাহসী সিদ্ধান্ত দাম্পত্য ভালোবাসা, ত্যাগ ও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকল। কঠিন সময়ে জীবনসঙ্গীর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, ভালোবাসা শুধু সুখের মুহূর্তে নয়, বরং বিপদের সময়ও একে অপরের হাত ধরে রাখার নাম।