২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩৩

সোনালি আঁশের সঙ্গে ‘রুপালি কাঠি’,—পাটকাঠিতে হাসি ফরিদপুরের কৃষকের

রোদে দেওয়া হয়েছে পাটকাঠি  © সংগৃহীত

একসময় পাটের আঁশ সংগ্রহের পর পাটকাঠি ফেলে দিতেন কৃষকেরা। জ্বালানি কিংবা ঘরের বেড়া তৈরিতে সীমাবদ্ধ ছিল এর ব্যবহার। তবে দেশ-বিদেশে চাহিদা বাড়ায় ফরিদপুরের মধুখালীতে সেই পাটকাঠিই এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। পাটের সোনালি আঁশের পাশাপাশি ‘রুপালি কাঠি’ বিক্রি করেও লাভের আশা করছেন চাষিরা। পাটকাঠি থেকে চারকোল উৎপাদন ও রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় একসময়ের ফেলনা এই কৃষিপণ্য ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।

স্থানীয়রা জানায়, এক সময় ৯০ ভাগ কৃষক মনে করতেন এটা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার ছাড়া কিছুই করা যায় না, তাই যেখানে সেখানে ফেলে রাখা হতো। বিশ্ব বাজারে পাটকাঠির চাহিদা বাড়ায় পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি দামও ভালো পাওয়া যায়। অনেক কৃষক পাটের সঠিক মূল্যে না পেলেও পাটকাঠিতে তা পুষিয়ে নিচ্ছেন।

উপজেলার পূর্ব আড়পাড়া গ্রামের পাটচাষি আকরাম শেখ  বলেন, কয়েক বছর আগে পাটকাঠি বাড়ির আঙ্গীনায় পচে নষ্ট হতো। বর্তমানে পাটকাঠি ব্যাপক চাহিদা। ব্যাপারীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যায়।  দামও ভাল পাওয়ায় পাওয়া যায়।

কলাইকান্দা গ্রামের কৃষক আনন্দ বলেন,ফেলনা পাটকাঠি আগে কদর ছিলো না তাই ফেলে দিত এখন এটা আয়ের অন্যতম উৎস।

সাংবাদিক মো. মফিজুর রহমান জানান, উপজেলার রায়পুর ও গাজনা ইউনিয়নে পাটকাঠির চারকোল ফ্যাক্টারি স্থাপন হওযায় এখানে পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই বের করা হয়। সেই ছাই থেকে কার্বন পেপার, কিম্পউটারের প্রিন্টারের কালি, ফটোকপি কালি, আতশবাজি, মোবাইল ব্যাটারি ,প্রসাধনী পন্য, বিষ ধ্বংসকারী ওষুধ, দাঁত পরিষ্কারের ওষুধ, সার উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই সঙ্গে ছাই থেকে বের হওয়া কার্বন বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। তাই দেশে ও বিদেশে বেড়েছে পাটকাঠির কদর।

কৃষিসংশ্লিষ্টদের মতে, পাট চাষে সরকারি প্রণোদনা, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ ও বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে মধুখালীতে পাট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের রফতানি আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সোনালি আঁশ ও পাটকাঠি। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব ইলাহী বলেন, চলতি মৌসুমে মধুখালীর ১১টি ইউনিয়নে মোট ৮ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর।