২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১২

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাক্স আদায়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

গ্রেপ্তার দুজন  © সংগৃহীত

ভোলার বোরহানউদ্দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বসতভিটার ট্যাক্স আদায়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে ছাপানো রসিদ নিয়ে বসতভিটার ট্যাক্স আদায় করতে যান এক যুবক। স্থানীয় বাসিন্দারা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজের নাম মো. রিয়াজ বলে জানান। এ সময় তিনি নিজেকে পিএসবি প্রজেক্টের নিয়োগ করা খণ্ডকালীন ট্যাক্স কালেক্টর হিসেবে পরিচয় দেন।

তবে কীসের ভিত্তিতে এবং কার অনুমতিতে তিনি ট্যাক্স আদায় করছেন, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ওই যুবক। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। এতে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ওই যুবককে আটকে রাখেন।

পরে তাকে আটকে রাখার খবর পেয়ে চক্রের আরেক সদস্য ঘটনাস্থলে এলে স্থানীয় বাসিন্দারা দুজনকেই অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার বাসিন্দা মো. ইমান আলীর ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম (৩৮) এবং নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার বাসিন্দা ছফদ্দি মাহমুদের ছেলে মাহবুব ইসলাম সাগর (২৪)।

পরে সোমবার রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গ্রেপ্তার দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের ট্যাক্স কালেক্টর পরিচয় দিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া, কাচিয়া, পক্ষিয়া ও হাসাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বসতভিটার ট্যাক্স আদায় করছিলেন। এ সময় টিনের ঘর থেকে ৩০০ টাকা এবং পাকা বাড়ি থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছিল।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসক এবং ইউপি সচিবদের সঙ্গে যোগসাজশে পরিষদের চৌকিদারদের সহযোগিতা নিয়ে তারা এ কার্যক্রম চালাতেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভোলার আদালতে পাঠানো হয়েছে।