২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:০৪

মানুষের কাছে ভিক্ষা করে, টাকা চেয়ে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছি এখন খোঁজ নেয় না: তাশরিফের বাবা

তাশরিফ ও তার বাবা  © সংগৃহীত

গাজীপুরের আলোচিত জুবায়ের আহমাদ তাশরিফের বিরুদ্ধে অসুস্থ বাবার খোঁজ না নেওয়া, চিকিৎসার খরচ না দেওয়া এবং বারবার ফোন করলেও সাড়া না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মানুষের কাছে ভিক্ষা করে ও টাকা চেয়ে ছেলের চিকিৎসা করানোর কথা জানিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেছেন তার বাবা। ছেলেকে কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়ে হাফেজ ও মাওলানা বানালেও এখন তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ করেন জুবায়েরের বাবা। তিনি জানান, ইমামতি করে অল্প আয় করতেন। সেই আয়ে ছেলের চিকিৎসার খরচ চালানো কঠিন হওয়ায় মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হয়েছে তাকে। ছেলের অসুস্থতার সময় ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য অনেক কষ্ট করেছেন বলেও জানান তিনি।

জুবায়েরের বাবা বলেন, ‘সে আজকে আমার খোঁজ-খবর লয় না, আমারে সে দেহেনা, আমারে টাকা-পয়সা দেয় না, আমি কষ্টের ভিতরে আছি। মানুষের কাছে ভিক্ষা কইরা কইরা অনেকদিন পর হাসপাতালে আমি চিকিৎসা কইরা তারে আল্লাহ মুক্তি করছে। সে এত টাকা কামাই করে, এত টাকা মানুষের পিছনে ফেলায়, সে আমারে টাকা দেয় না চিকিৎসার জন্য।’

ছেলের বন্ধুদের পেছনে টাকা খরচ করলেও নিজের জন্য সামান্য সহায়তাও পান না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘তার বন্ধুবান্ধব—তাগরে গোশত দেয়, দিতে পারে; এক টুকরা গোশত আমারে দিল না।’

ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে হাফেজ ও মাওলানা বানানোর পেছনে নিজের ত্যাগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘পড়াইয়া তারে আজকে মাওলানা বানাইছি, হাফেজ বানাইছি; সে অস্বীকার যায় আমি বলে তারে পড়াইছি না।’

জুবায়েরের বাবা জানান, ছোটবেলায় তার ছেলের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন মানুষের কাছে টাকা চেয়ে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছিলেন তিনি। নিজের সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলের চিকিৎসার জন্য ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের হাসপাতালে ছুটেছেন। ছেলের সুস্থ হয়ে ওঠাকে আল্লাহর রহমত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের অসুস্থতার সময় ছেলের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েও তা পাননি বলে অভিযোগ করেন জুবায়েরের বাবা। তার দাবি, ছেলে জমি কেনার কথা বলে টাকা দিতে পারেনি বলে জানিয়েছিল। পরে একটি গণমাধ্যমের মাধ্যমে সহায়তা চাইলে কিছু মানুষ তাকে অর্থ দেন। সেই টাকা দিয়ে চিকিৎসা করালেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি তিনি; চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে ছেলের কাছ থেকে মাসিক ১০ হাজার টাকা পাওয়ার আশ্বাসের কথাও জানান তিনি। তার অভিযোগ, কিছুদিন আগে জুবায়ের তার কাছে এসে চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ানোর কথা জানায় এবং ক্ষমা চায়। ছেলের অনুরোধে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। এরপর চাকরি ছেড়ে দিলে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের বাবা বলেন, ‘ঠিক আছে, তুই ছেলে হিসেবে মাফ চাইছস, মাফ কইরা দিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ছেলের কথায় চাকরি ছেড়ে দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পাননি। জুবায়েরের সঙ্গে থাকা ওবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন বলেও জানান তিনি। ছেলেকে বারবার ফোন করেও সাড়া পান না বলে অভিযোগ তার।

তিনি বলেন, ‘১০০ ফোন দেই, ফোন যত দেই ফোন হে রিসিভ করে না। তা আমি বললাম, আমি বাবা, সে সন্তান; তারে আমি ফোন দেই, হে রিসিভ করে না!’