২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩০

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে সংবাদ প্রকাশের পর করিম মিয়ার মরদেহ অন্যত্র দাফনের উদ্যোগ

নিজের বসতঘরেই কবর দেওয়া হয়েছে করিম মিয়াকে  © সংগৃহীত

শেরপুরের শ্রীবরদীতে বসতঘরের ভেতরে কবর দেওয়া ৭০ বছর বয়সি করিম মিয়ার মরদেহ অন্যত্র দাফনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাঁর মরদেহ অন্যত্র কবরস্থ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, তাতিহাটি ইউনিয়নের ওই ব্যক্তির বিষয়ে ইউএনওকে বলা হয়েছে। পরদিন তাঁর মরদেহ অন্যত্র কবরস্থ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে, রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে মারা যান করিম মিয়া। পরদিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের নিজ বসতঘরের ভেতর তাঁকে দাফন করা হয়। দাফনের জন্য আলাদা জায়গা না থাকায় পরিবারের থাকার ঘরেই তাঁকে কবর দিতে হয়।

করিম মিয়ার বড় মেয়ে কোতুলী বেগম জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ছিলেন। বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি ফুফুর কাছ থেকে বাবার থাকার ঘরসহ তিন শতাংশ জমি কিনে নেন। জমিটি কেনার পরও ঘরটি তাঁর বাবা-মায়ের বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। পরিবারের অন্য কোনো জায়গাজমি না থাকায় বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরে বাবাকে দাফন করতে হয়েছে।

কোতুলী বেগম বলেন, ‘আমরা দুই ভাই-বোন ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করি। আরেক বোন স্বামীর বাড়িতে থাকে। বাবাকে কবর দেওয়ার মতো কোনো জায়গাজমি আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরে কবর দিতে হয়েছে। সরকারি কবরস্থান থাকলে সেখানে দাফন করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের এখানে সেই ব্যবস্থা নেই।’

পরিবারের দাবি, এলাকায় সরকারি কবরস্থান থাকলে করিম মিয়াকে সেখানে দাফন করা সম্ভব হতো। কিন্তু বিকল্প জায়গা না থাকায় তাঁদের বসতঘরেই কবর দিতে হয়েছে তাঁকে। এতে পরিবারের বসবাসের জায়গা নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের পর করিম মিয়ার মরদেহ অন্যত্র দাফনের উদ্যোগের কথা জানাল প্রশাসন। এখন জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন কীভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শুধু এই ব্যপারে নয়, শেরপুর জেলার যেকোনো জায়গায় মানবিক, দুর্ভোগ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম শেরপুরের জেলা প্রশাসকের নজরে আসলে তাঁর দায়িত্ববোধ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেন। শ্রীবরদীর এই ঘটনাতেও তিনি নজির স্থাপন করলেন। আশা করি এই ধরণের কাজ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবেন।