২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০:২৫

জেলা হাসপাতালে নেওয়ারও সময় ছিল না, উপজেলার চিকিৎসকদের দুঃসাহসী সিদ্ধান্তে বাঁচল গৃহবধূর প্রাণ

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার করছেন চিকিৎসকরা  © চিকিৎসকদের সৌজন্যে

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো রাপচার্ড এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণজনিত জটিলতায় জরুরি অস্ত্রোপচার করে ২৪ বছর বয়সী এক তরুণীর প্রাণ রক্ষা করেছেন চিকিৎসকেরা। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেট থেকে প্রায় তিন লিটার রক্ত বের করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে এ পর্যন্ত তাকে ছয় ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ওই গৃহবধূ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে রিয়া আক্তার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আসেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাকলুকুর রহমান তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্যালাইন দেওয়ার পর ওপরের তলায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক ডা. হাসান মাহমুদ রোগীকে পরীক্ষা করে দেখতে পান, তার রক্তচাপ পাওয়া যাচ্ছে না, নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত দুর্বল এবং পেটের ব্যথায় তিনি অস্থির হয়ে পড়ছেন। শরীরও ক্রমেই ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছিল।

রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বুঝতে পেরে ডা. হাসান মাহমুদ সহকর্মী ডা. ইশতিয়াক আহমেদকে ডাকেন। পরে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. কুলসুম আক্তার লাবণীকে খবর দেওয়া হয়। তিনি দ্রুত এসে রোগীর অবস্থা পরীক্ষা করে জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণজনিত জটিলতা এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় সিনিয়র স্টাফ নার্সরা দ্রুত রোগীর দুই হাতে ক্যানুলা স্থাপন করে তরল ও জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন।

রোগীর স্বজনদের জানানো হয়, জীবন বাঁচাতে দ্রুত অস্ত্রোপচার করা জরুরি। অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা বা বরিশালে নেওয়ার পথে রোগীর মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। পরে স্বজনেরা অস্ত্রোপচারে সম্মতি দেন এবং দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করেন। অ্যানেস্থেসিয়া কনসালট্যান্ট ডা. মনিরুজ্জামানও রোগীকে পরীক্ষা করে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।

এরপর রোগীকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। পেট খোলার পর চিকিৎসকেরা ভেতরে প্রচুর জমাট বাঁধা রক্ত দেখতে পান। তাদের হিসাবে, পেটের ভেতরে প্রায় তিন লিটার রক্তক্ষরণ হয়েছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে এনে রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।

চিকিৎসকেরা জানান, জরায়ুর বাইরে, সাধারণত ফ্যালোপিয়ান টিউবে গর্ভধারণ হলে ভ্রূণ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিউব ফেটে যেতে পারে। এতে পেটের ভেতরে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়। সময়মতো শনাক্ত ও অস্ত্রোপচার না করা গেলে এ ধরনের জটিলতা প্রাণঘাতী হতে পারে।

চরফ্যাশন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল ইসলাম সুমন বলেন, গর্ভধারণের শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো এবং নিয়মিত গর্ভকালীন সেবা (এএনসি) গ্রহণ করা জরুরি। এতে জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের মতো জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।