২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৯

চট্টগ্রামে এবার যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, স্বামী আটক

নিহত তানিয়া কামাল নিহাত ও তার স্বামী  © সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল তানিয়া কামাল নিহাতের (২০)। তবে সন্তান জন্মের আগেই মৃত্যু হয়েছে তার। চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার স্বামী নুর উদ্দিনকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

রবিবার(২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই মোনাফ হাজির পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তানিয়া পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণখাইন গ্রামের মোহাম্মদ কামালের মেয়ে। তার স্বামী নুর উদ্দিন একই উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজির পাড়ার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানিয়া ও নুর উদ্দিনের মধ্যে চার থেকে পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে সংসার ভালো চললেও কিছুদিন পর পারিবারিক কলহ শুরু হয়। তানিয়ার পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে তাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো।

তানিয়ার বাবা মোহাম্মদ কামাল অভিযোগ করেন, গত ঈদে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন নতুন কাপড়চোপড় ও উপহার দাবি করেন। রমজান মাসে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার দিলেও সম্প্রতি আবারও কাপড়চোপড় ও যৌতুক দাবি করা হয়। কিন্তু তাদের সেই দাবি পূরণ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

কামালের অভিযোগ, এ নিয়ে তানিয়ার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। তবে তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

পটিয়া উপজেলা কৃষকদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, তানিয়া ও নুর উদ্দিনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ককে সম্মান জানিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের পর যৌতুকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এমন পরিণতি কেউ প্রত্যাশা করেননি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তিনি।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, তানিয়ার স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তানিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর পটিয়ায় নাশতাকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগের মধ্যে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুন নূর সিফাত (২২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। এর কয়েক দিনের ব্যবধানে এবার নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা তানিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দুটি মৃত্যুর ঘটনাতেই নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে তানিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।