চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর জেরে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মীরনগর ও রসূলাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারদের নাম জানা যায়নি।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর পাশাপাশি নাশকতা, সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদ ক্ষতিসাধনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কালিয়াইশ ইউনিয়নের নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা দেলোয়ার হোসেন (৩২) ও তার দুই বছর বয়সী মেয়ে ওয়াসিফার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
এ সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া হাইওয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পরে সাতকানিয়া থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) জাহেদের নেতৃত্বে একটি টহল ঘটনাস্থলে গেলে তাদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে।
পরে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শুক্রবার রাতে থানা পুলিশের টহল দলের দায়িত্বে থাকা এসআই জাহেদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হতাহতদের উদ্ধারের জন্য আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যায়৷ পথিমধ্যে দুষ্কৃতিকারী আমাদের উপর হামলার পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এতে আমাদের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মহাসড়কে নিষিদ্ধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। পরবর্তীতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে।’