সন্ধ্যা নামলেই ছাতিমের সুবাসে মাতে পথচারীদের মন
হেমন্তের বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ছাতিম ফুলের মিষ্টি সুবাস। সেই ঘ্রাণে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারীরা। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজ ও পশু হাসপাতাল ব্রিজের সামনের ছাতিম গাছগুলোয় ফুটেছে ফুল। বিশেষ করে পাটগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে এর সুবাস।
দিনভর ব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফেরা মানুষ কিংবা সড়কে চলাচলরত পথচারীরা ছাতিমের ঘ্রাণে খুঁজে পাচ্ছেন প্রকৃতির সান্নিধ্য। চেনা পথও যেন এই সুবাসে হয়ে উঠছে অন্য রকম। হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আসা ছাতিম ফুলের সৌরভ প্রকৃতিতে যোগ করেছে বাড়তি মুগ্ধতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছাতিম গাছের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অনেকেই থেমে ফুলের ঘ্রাণ নিচ্ছেন। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঋতু ও আখি বলে, ‘এই পথ দিয়ে আমরা নিয়মিত চলাচল করি। কিন্তু আগে কখনো ছাতিম ফুলের বিষয়টি খেয়াল করিনি। এর ঘ্রাণ খুব ভালো লাগে, তাই দুটি ফুল ছিঁড়েছি।’
ঋতু আরও জানায়, সব ফুলই তার পছন্দের, তবে ছাতিম ফুল সম্পর্কে আগে তেমন জানা ছিল না।
টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদ মিয়া বলেন, কলেজের সামনের ছাতিম গাছটি সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র সুবাস ছড়ায়। বিষয়টি বেশ উপভোগ্য। ছাতিম একটি ঔষধি গাছ। বর্তমানে এ ধরনের গাছ খুব একটা চোখে পড়ে না। ছাতিমের পাশাপাশি দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। গাছ মানুষের উপকারে আসে, রোদে পথচারীদের ছায়া দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
ঢাকার মালিবাগ থেকে টুঙ্গিপাড়া ঘুরতে আসা এক প্রকৌশলী দম্পতি বলেন, পাটগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকার ছাতিম গাছটির সুবাস তাঁদের মুগ্ধ করেছে। ঘ্রাণ ভালো লাগায় তারা সেখানে বেশ কিছুক্ষণ বসে ছিলেন।
টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের পাশে রেডিও মেরামতের কাজ করেন আবুল বাশার মোল্লা। তিনি বলেন, বর্তমানে ছাতিম গাছ খুব বেশি দেখা যায় না। বাণিজ্যিকভাবে তেমন লাভজনক না হওয়ায় অনেক নার্সারিতে এ গাছের চারা উৎপাদন করা হয় না। অথচ ছাতিম একটি ঔষধি গাছ। এর নিচে বসলে তাঁর মনে হয়, যেন স্বর্গীয় পরিবেশে আছেন। তাঁর ভাষ্য, সাধারণত হেমন্তে ছাতিম ফুল ফোটে। এ সময় বৃষ্টি কম হওয়ায় ফুলের সুবাস দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক শুকলাল বিশ্বাস বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ছাতিম গাছের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি চিরসবুজ উদ্ভিদ হওয়ায় সারা বছরই এর পাতা সবুজ থাকে। গাছের পাতা ও সবুজ অংশ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে। তবে অতিরিক্ত নগরায়ণ ও নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে গাছের সংখ্যা কমছে। পরিবেশ রক্ষায় পরিকল্পিত নগরায়ণের পাশাপাশি বেশি করে গাছ লাগানো প্রয়োজন।
টুঙ্গিপাড়ার সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাতিম গাছগুলো শুধু সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে না, জানান দিচ্ছে হেমন্তের আগমনী বার্তাও। দিনের আলোয় ফুলগুলো সহজে চোখে না পড়লেও সন্ধ্যা নামতেই বাতাসে ভেসে আসে এর মিষ্টি সুবাস। প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য ধরে রাখতে ছাতিমসহ দেশীয় প্রজাতির গাছ সংরক্ষণ ও নতুন গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।