২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫

দিনভর ব্যস্ততা, বিকেল হলেই পাখির কলকাকলিতে মুখর অফিসপাড়া

গাছে গাছে পাখিদের বিচরণ  © টিডিসি সম্পাদিত

সারাদিনের কাজের ক্লান্তি শেষে যখন বাড়ি ফেরার পালা তখন পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে প্রাণবন্ত হয় মন। দুপুর গড়িয়ে বিকাল নামতেই ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে গাছে গাছে ছেয়ে যায়। পাখিদের কলকাকলিতে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলে। প্রতিদিনই এমন মুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয় লক্ষ্মীপুরের সরকারি অফিস পাড়া।

বিশেষ করে ঢাকা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের ঝুমুর এলাকায় অবস্থিত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা জজ কোর্টে, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সহ আশে পাশের গাছ গুলোতে পাখিদের এমন বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া আশে পাশের বিদ্যুতের খুঁটি ও অন্যান্য স্থাপনায়ও তারা বিচরণ করে। 

তাদের এমন উপস্থিতিকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। পাখিদের সংরক্ষণের নেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভিতরে বিভিন্ন গাছে স্থাপন করা হয়েছে শতাধিক পাখির বাসা। নির্বিঘ্নে যাতে তারা ঘুমাতে পারে সেজন্য পর্যায়ক্রমে আরো বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া শহরের অন্যান্য যেসকল জায়গায় পাখিদের বিচরণ রয়েছে সেখানেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসন সূত্র। আর প্রশাসনের এমন এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

পথচারীরা বলেন, বিকালে এ রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে পাখিদের কিচিরমিচি শব্দে প্রশান্তি অনুভব হয়। হাজার হাজার পাখি উড়ে এসে আশে পাশের গাছ গুলোতে বসে। এতে এক অন্যরকম পরিবেশ তৈরি হয়। 

আরও দেখুন: প্রতিষ্ঠার ১৮ বছরেও পাবিপ্রবিতে নেই অ্যালামনাই

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন, পাখিদের বিচরণে অসাধারণ মুহুর্ত তৈরি হয়। পাখিদের কিচিরমিচিরে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলে। বিশেষ করে শীতের সময়টিতে এ পাখিগুলো আসে। প্রতিদিন বিকালে হাজার হাজার পাখি কলকাকলিতে মুখরিত করে তোলে। আমাদের এখানের যতো গাছ আছে এবং রাস্তার পাশের বিদ্যুতের খুঁটি এবং তারে বসে তারা। সন্ধ্যার আগে কিচিরমিচির করে এবং সন্ধ্যার পর নিরিবিলি থাকে। এগুলো অতিথি পাখি, সাইবেরিয়ার থেকে আসা। আমাদের চাকুরির সুবাদে প্রতিদিনই এ পরিবেশ উপভোগ করি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা বলেন, ‘পাখিদের বাসস্থান না থাকায় গাছের ডালে ঘুমায়। পাখি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসক স্যারের উদ্যোগে কিছু বাসা ঝুঁলানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে বাসা গুলোতে পাখিগুলো ভালো ভাবে ঘুমাতে পারবে। তাদের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাখি, প্রকৃতি এবং পরিবেশকে সংরক্ষণের জন্য আমাদের এ উদ্যোগ। আমরা যদি সবায় এগিয়ে আসি তাহলে আমাদের প্রকৃতি সংরক্ষিত থাকবে।’