যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ওঠা সেই শিক্ষকের পাশে কওমি স্কলার শামীম, দিতে চাইলেন মামলা
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুসলেউদ্দিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকার বাসাবোর ছায়াবীথি জামে মসজিদের খতিব মুফতি শামীম মজুমদার। কওমি ধারার সুপরিচিত এই ইসলামিক স্কলার জানিয়েছেন, শানে সাহাবার উদ্যোগে শিক্ষককে মারধর এবং মাদ্রাসায় ঢুকে ‘মব’ সৃষ্টির ঘটনায় মামলা করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তদন্তে শিক্ষক দোষী প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মুফতি শামীম মজুমদার বলেন, ‘টঙ্গীতে মাদরাসায় ঢুকে শিক্ষককের উপর হামলা। শানে সাহাবার পদক্ষেপে রাতেই মামলা এন্ট্রি হচ্ছে। আগামীকাল বিকাল ৫ টায় ঘটনাস্থলে আসছি আমরা।’
আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘টঙ্গীর ঘটনা তদন্ত করছে শানে সাহাবা। শিক্ষক দোষী হলে শাস্তি পাবেন। তবে মাদরাসায় ঢুকে মব সৃষ্টির বিষয়টি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে না। ইনশাআল্লাহ। বিস্তারিত আসছে...’
এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষককে থাপ্পড় দিয়ে আলোচনায় আসা শাহজালাল রুমি নিজের অবস্থান জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ভয় আমার অভিধানে নেই! আমাকে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখো না।। মনে রেখো, আমি বাংলাদেশ।’ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনের বিরুদ্ধে সাত বছরের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
শিশুটির পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে ভয় পেয়ে সে মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলতে সাহস পায়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে মারধরের হুমকি দিয়েছিলেন বলে শিশুটি পরিবারকে জানায়। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
এরপর গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষক শিশুটিকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে শাহজালাল রুমি নামে একজন ওই শিক্ষককে থাপ্পড় মারেন। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা শিক্ষককে মারধর করেন।
খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার হাত থেকে মুসলেউদ্দিনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।