২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০৬

আট হাজার ৫৫৬ কোটি ব্যয়ে বদলে যাবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক  © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন এবং যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়নে বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ স্থানে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও গতি আসবে বলে প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পটিয়া ও চকরিয়ায় বাইপাস সড়ক নির্মাণ, দোহাজারী ও লোহাগাড়ার আমিরাবাদে বিদ্যমান সড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং কেরানীহাটে ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ২০২২ সালের সমীক্ষার ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাঁচ স্থানে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পটিয়া ও চকরিয়ায় বাইপাস সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে যানবাহনকে জনবহুল বাজার ও ব্যস্ত এলাকা এড়িয়ে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হবে। এতে স্থানীয় যানবাহন ও দূরপাল্লার যানবাহনের মধ্যে সংঘাত কমবে এবং যানজটের চাপ হ্রাস পাবে।

অন্যদিকে, দোহাজারী ও আমিরাবাদ এলাকায় বিদ্যমান সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সড়কের ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং যানবাহন চলাচল আরও গতিশীল হবে। কেরানীহাটে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলে ব্যস্ত এলাকায় যানবাহনের চলাচল সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, পাঁচটি স্থানে মোট ২৪ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করা হবে। ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ বাড়লে সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার সুযোগও রাখা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহন ও ধীরগতির যানবাহনের চলাচলের জন্য সার্ভিস রোড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের ব্যয় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা
প্রকল্প উপপরিচালক নাসরিন আরা শাহীন জানিয়েছেন, প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা। বর্তমানে প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। তবে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা ও ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। ফলে প্রকল্পের সুফল পেতে সংশ্লিষ্ট কাজগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘদিনের যানজটের কারণ
জাইকার সমীক্ষা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন বাজার এলাকায় অবৈধ দখল, অস্থায়ী দোকানপাট এবং ধীরগতির যানবাহনের কারণে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বিশেষ করে ব্যস্ত বাজার ও জনবহুল এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়লে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। এতে যাত্রীদের যাতায়াতের সময় বেড়ে যায় এবং পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটে। পরিকল্পিত সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সড়কের অবৈধ দখল নিয়ন্ত্রণ ও যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ঘিরে বাড়ছে গুরুত্ব
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প, বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপও বাড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, সড়কের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যানজট নিরসনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ, নিরাপদ ও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে প্রকল্পের বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে নকশা প্রণয়ন, ভূমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করার পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।