বাবা-মা ছেড়ে গেছেন আগেই, আশ্রয়স্থল দাদিও না ফেরার দেশে— এবার জীবনের শেষ দিন গুনছে শিশু ইউসুফ
মাত্র ১১ বছর বয়স ইউসুফের। জীবনের শুরুতেই তাকে ছেড়ে যান বাবা-মা। শেষ আশ্রয়স্থল দাদিও না ফেরার দেশে। গাছ থেকে পড়ে শরীরের নিচের অংশে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর অস্ত্রোপচারে শরীরের নিচের অংশের বড় একটি অংশ কেটে ফেলতে হয়। এবার তার শরীরের অবশিষ্ট অংশে বাসা বেঁধেছে ক্যান্সার। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ‘তার চিকিৎসা শেষ, বাঁচার সময় আর মাত্র এক মাস। তবে নিজের জীবনের এমন পরিণতির কথা জানে না ছোট্ট ইউসুফ।’
ইউসুফের এই অসহায় জীবনের গল্প তুলে ধরেছেন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী আলী আসগর ইমন। আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান তিনি।
ইউসুফের শারীরিক অবস্থা ও জীবনের করুণ বাস্তবতার কথা তুলে ধরে সাংবাদিক ইমন জানান, একসময় ইউসুফের মা তাকে ছেড়ে চলে যান। পরে তার বাবাও আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। এরপর ইউসুফ আশ্রয় নেয় দাদির কাছে। কিন্তু গাছ থেকে পড়ে শরীরের নিচের অংশে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তার শরীরের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলতে হয়। কিছুদিন পর দাদিও মারা যান। এতে চরম অসহায় হয়ে পড়ে শিশুটি।
একপর্যায়ে একটি মসজিদের সামনে পড়ে থাকতে দেখা যায় ইউসুফকে। সেখান থেকে তাকে তুলে এনে আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে চট্টগ্রামের বেওয়ারিশ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। কিন্তু এবার ইউসুফের শরীরে নতুন করে ধরা পড়েছে ক্যান্সার। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ‘তার চিকিৎসা শেষ। এখন শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা। তবে নিজের জীবনের এমন পরিণতির কথা জানে না ইউসুফ।’
তিনি জানান, পুনর্বাসন কেন্দ্রটির প্রতিষ্ঠাতা শওকত ভাই শিশুটির সব চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছেন। ইউসুফ যখন যা খেতে চায়, তাকে তা-ই দেওয়া হচ্ছে। এত অসুস্থতার মধ্যেও সে তাদের জন্য দোয়া করেছে।
ইউসুফের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইমন লেখেন, ‘আমি ওর মুখে-চোখে হাত রাখলাম, ছুঁয়ে দেখলাম এক ভাগ্যাহত সন্তানকে। ইউসুফের সাথে আমার শেষ দেখা।’
পৃথিবীর নানা আনন্দ, প্রকৃতি, প্রেম ও সম্পদ ভোগ করার পরও মানুষের অসুখী থাকা এবং জীবন নিয়ে অভিযোগ করার প্রবণতার কথা উল্লেখ করে ইমন নিজের উপলব্ধির কথা জানান।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘ক্ষমা করে দিস ইউসুফ, পরকালে যেন আল্লাহ তোকে সব পুষিয়ে দেয়, আমি নামাজে আল্লাহকে সেটাই বলবো।’