১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৩

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় দুই সন্তান

রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা গ্রামের সামাজিক কবরস্থান  © সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে। মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে ছেলে রিশাদ ও মেয়ে তুবা। একসঙ্গে স্ত্রী-সন্তানদের হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন প্রভাষক শহিদুল ইসলাম।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার পাঁচ আরোহী নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম (২৬), ছেলে রিশাদ মিয়া (১২) ও মেয়ে তুবা (৭)। 

নিহত অন্য দুজন হলেন যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী বাজার এলাকার বাদল মিয়ার স্ত্রী শরিফা বেগম (৪২) এবং রাজীবপুর উপজেলার মণ্ডলপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪২)। তাদেরও রোববার সকা‌লে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

জানা গে‌ছে, শহিদুল ইসলামের স্ত্রী-সন্তানেরা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পান্তামারী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ বাজারের শিবেরডাঙ্গি এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবোঝাই একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও দুজন।

জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয় কলেজশিক্ষক একরামুল হক বলেন, শহিদুল ইসলামের দুই সন্তান তাঁর সন্তানের সঙ্গে পড়াশোনা করত। রিশাদ এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। তাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য কোচিং করানোর পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। কিন্তু দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শহিদুল ইসলাম বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

দুর্ঘটনায় বৃষ্টি খাতুন (২৫) নামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) রাসেল কবির বলেন, এ ঘটনায় ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।