১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০০:১৮

৩ বান্ধবীর দুইজন ফজরের পর হাঁটতে গিয়েছিলেন, রিসোর্টে থাকা অপরজন হলেন লাশ

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন  © সংগৃহীত

বাল্যকালের তিন বান্ধবী আইরীন জাহান মীম, ইসরাত জাহান ইমা আর নাসরিন আক্তার মুক্তা। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) একসাথে ঘুরতে গিয়েছিলেন কক্সবাজারে। উঠেছিলেন উখিয়ার ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে। সকালের সূর্য দেখতে ঘুম থেকে ওঠার পর তিনজন একসাথেই বের হতে চেয়েছিলেন। মীম আর ইমা বাইরে বের হলেও, ঘুম থেকে উঠতে না পেরে রিসোর্টের রুমেই ছিলেন মুক্তা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে আইরীন জাহান মীম বলেন, আমি আর ইমা ফজরের নামাজের পর বের হওয়ার সময় মুক্তাকে ডাকলাম। ও (মুক্তা) বললো তোরা যা আমি একটু ঘুমাই। ও আর যেতে পারলো না। কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে ফিরে আমি আর ইমা যখন রিসোর্টের সামনে পৌঁছাই তখন দেখলাম রিসোর্টটিতে আগুন জ্বলছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চিৎকার দিয়ে বলছিলাম আগুন লাগছে। তখন কেয়ারটেকার দৌড়ে এসে ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলো। ওনাদের বললাম, আমাদের ফ্রেন্ড উপরে আছে। ভেতরে আরো অনেক লোক আছে বের করেন দ্রুত।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুক্তাকে আর রিসোর্ট থেকে জীবিত ফেরানো যায়নি। মুক্তাসহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন।

ওই রিসোর্টের অতিথি তালিকা দেখে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও আগুনে পোড়ার কারণে মরদেহগুলোর অবস্থা এমন হয়েছে যে অনেকের পরিচয়ই শনাক্ত করা যায় নি।

শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মুক্তার মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি বলে জানান মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তিনি বলেন, আমি বিমানে করে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছে এখন আমার স্ত্রীর মরদেহ শনাক্ত করতে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস অন্য কেউ না পারলেও আমি আমার স্ত্রীকে দেখলে ঠিকই চিনতে পারবো।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত অবস্থায় সাতজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, এরই মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে একজন ও উন্নত চিকিৎসার জন্য চারজন হাসপাতাল ছেড়েছে বলেজানিয়েছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল।

এদিকে, আগুনে পুড়ে যাওয়া ওই টুপটুপ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা