বন্ধুদের মারধরের ২ দিন পর হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের মারধরের শিকার হওয়ার দুই দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. রিয়াজ (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে মারধরের শিকার হওয়ার পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রিয়াজ সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষিতা মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে নিহত রিয়াজ তার এক বন্ধুর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে গত বৃহস্পতিবার সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের শাহ মজিদিয়া মার্কেটে রিয়াজকে ডেকে নিয়ে রিয়াজের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ফরহাদ দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহাদাত, জায়েদ, আব্বাস, অনিক ও ফরহাদ গাছের বাটাম দিয়ে রিয়াজকে মারধর করেন। মারধর থেকে বাঁচতে রিয়াজ স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক রতন আচার্যের ফার্মেসিতে আশ্রয় নিলেও রক্ষা পাননি। পরে অভিযুক্তরা তাকে নাছিরের দোকানের সামনে ফেলে রেখে চলে যান।
পরে আহত রিয়াজকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তার বাবাকে খবর দেয় পুলিশ। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) খালি না থাকায় তাকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। আর্থিক সংকটের কারণে শুক্রবার বিকেলে তাকে আবার চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রিয়াজের মা রোজিনা আকতার বলেন, ‘শাহাদাত আমার ছেলেকে ডেকে তার দোকানে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তারা আমার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে। ইতোমধ্যে আমি বাদী হয়ে শাহাদাত, জায়েদ, আব্বাস, অনিক ও ফরহাদের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস ছফুর বলেন, ‘এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। তাদের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এজন্য আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। পুরো ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’