১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫২

অগ্নিদগ্ধ রোগীদের শেষ ভরসা চট্টগ্রাম-ঢাকা, কক্সবাজারে নেই পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল   © সংগৃহীত

পর্যটননগরী কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু ও ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় জেলার অগ্নিদগ্ধ রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কক্সবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট না থাকায় গুরুতর দগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায় পাঠানোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুনের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভি রয়েছেন। এ ছাড়া একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা ও অগ্নিদগ্ধ রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও উখিয়া-টেকনাফে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট না থাকায় গুরুতর অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হয়। অগ্নিকাণ্ড কিংবা গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট অথবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসার ঝুঁকি

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায় রোগী স্থানান্তরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ রোগীদের ক্ষেত্রে এ সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত শয্যা এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা প্রয়োজন। এসব সুবিধার সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট না থাকলে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

পর্যটননগরীতে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রের দাবি

কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। বছরজুড়ে এখানে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটে। পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর বসবাসের কারণে এ অঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদাও উল্লেখযোগ্য।

এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আধুনিক বার্ন ইউনিট স্থাপন, প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট চালু হলে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের স্থানীয় পর্যায়েই বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং দূরবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তরের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।

ইনানীর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর কক্সবাজারে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে। স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও শরণার্থীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, ‘অগ্নিদগ্ধ রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের রোগীদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কক্সবাজারে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’