১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৮

সংসদে গণতন্ত্রের কথা বললেও ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র হত্যা করছে বিএনপি: এস এম ফরহাদ

ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ   © টিডিসি ছবি

সংসদে গণতন্ত্রের কথা বললেও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ভোলা শহরের চিলি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ভোলা সরকারি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এস এম ফরহাদ বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সংসদে গণতন্ত্রের কথা বললেও ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের বিজয় ও তা অটুট রাখার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও একই ধরনের বক্তব্য শোনা গিয়েছিল। তখন বেগম খালেদা জিয়াও গণতন্ত্র অটুট রাখার কথা বলেছিলেন।

ডাকসুর জিএস বলেন, ১৯৯০ সালের পর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল জয়ী হয়। এরপর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দলটির প্রভাব ছিল। তাঁর অভিযোগ, ওই সময়ে ডাকসু নির্বাচন বন্ধ করে ক্যাম্পাসে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের চর্চা চালু করা হয়। তাঁর ভাষায়, ক্যাম্পাসের গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা বিএনপি ও ছাত্রদলের চিরাচরিত ঐতিহ্য। ভোলা সরকারি কলেজেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের আজকের কর্মসূচি ভোলা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানটি বানচাল করতে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক অপতৎপরতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে উসকানি দিয়ে কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এস এম ফরহাদ বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের থেকে বিচ্ছিন্ন একটি সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে করা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডাকসুর জিএস বলেন, সংসদে গণতন্ত্রের কথা বলার পাশাপাশি ক্যাম্পাসগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করার রাজনীতি বন্ধ না হলে তরুণেরা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে দ্বিচারিতা দেখতে পাবে।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পড়াশোনা, ক্যারিয়ার গঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

ভোলা সরকারি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক কামরুল হাসান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী দাওয়াহ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং ভোলা শহর শাখার সভাপতি মাওলানা হাসনাইন আহমেদ।

এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা কামাল হোসেন, পৌর আমির মাওলানা জামাল উদ্দিন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল জায়েদ, শহর শাখার সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান, শহর সেক্রেটারি তাহসান সোহেল, কলেজ সেক্রেটারি কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আরিফ আহমেদ।