১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৭

মা হারা শিশুকে কোলে নিলেন ডিসি, দিলেন আর্থিক সহায়তা ও নতুন পোশাক

মা হারানো শিশুকে কোলে নিয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক  © সংগৃহীত

শেরপুরে মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় মাকে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হতে দেখা চার মাসের শিশু আব্দুল্লাহর পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। মাতৃহারা শিশুটিকে কোলে তুলে আদর করার পাশাপাশি তার ভরণপোষণের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন তিনি। কিনে দিয়েছেন নতুন পোশাকও। দরিদ্র রিকশাচালক বাবা লাল মিয়ার সন্তান আব্দুল্লাহর ভবিষ্যৎ ভরণপোষণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত গণশুনানিতে আব্দুল্লাহকে নিয়ে আসেন তার বাবা লাল মিয়া ও চাচি। এ সময় জেলা প্রশাসক শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন এবং তার সঙ্গে কিছুক্ষণ খুনসুটি করেন। পরে শিশুটির ভরণপোষণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেন এবং তার জন্য নতুন পোশাক কিনে দেন।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের চরসাপমারী গ্রামে ঘটে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। বাড়ির উঠানে চেয়ারে বসে কোলে থাকা চার মাসের শিশু আব্দুল্লাহকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন তিন সন্তানের জননী রুফিয়া বেগম (৩৫)। এ সময় পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর ভাসুরের ছেলে আরিফ হোসেন ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাঁকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মায়ের কোলে থাকা অবুঝ শিশুটির সামনেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

ঘটনার পর শেরপুর সদর থানা পুলিশ অভিযুক্ত আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

মাকে হারিয়ে শিশু আব্দুল্লাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তার বাবা লাল মিয়া। পেশায় রিকশাচালক হওয়ায় সীমিত আয়ে সন্তানদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাতৃহারা শিশুটির দায়িত্ব পালনে আর্থিক সংকট আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারটির সামনে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘চার মাস বয়সের এই শিশু আব্দুল্লাহ তার মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় মাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। এই অসহায় আব্দুল্লাহর বাবা দরিদ্র রিকশাচালক বিধায় তার ভবিষ্যৎ ভরণপোষণে আমি সহযোগিতা করে যাব।’

জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা ও নতুন পোশাক পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আব্দুল্লাহর বাবা লাল মিয়া। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতার আশ্বাস তাঁর পরিবারের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।