এমপিকে পাশ কাটিয়ে ডিলার নিয়োগ দিলেন ইউএনও , ‘আমরা উড়ে এসে জুড়ে বসিনি’— হুঁসিয়ারি জামায়ত এমপির
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে তোয়াক্কা না করে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, দলীয়করণ এবং চরম অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে এসব গুরুতর অভিযোগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অভিযুক্ত ইউএনও, যা বিতর্ককে আরও গভীর করেছে।
জানা গেছে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে পলাশবাড়ী উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত সভায় এ ঘটনার প্রকাশ হয়। সভায় উপস্থিত সবার সামনে ইউএনওর বিরুদ্ধে সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে চরমভাবে অসহযোগিতা করার অভিযোগ তোলেন স্থানীয় এমপি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এমপি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃষকদের অতি গুরুত্বপূর্ণ সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউএনও তাঁর সঙ্গে কোনো প্রকার পরামর্শ বা আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করেননি। কেবল একতরফাভাবে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের পরামর্শ মেনে ডিলার নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন তিনি। এমপি আরও অভিযোগ করেন, কোন নীতিমালায় এবং কাদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলো, সেই স্বচ্ছ তালিকা চাওয়া হলেও তা দিতে অস্বীকার করেছেন ইউএনও।
তিনি সভায় বলেন, ‘আমরা উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। স্থানীয় জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের এই দায়িত্বে বসিয়েছেন। অথচ একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে বর্তমান ইউএনও যেভাবে বিগত স্বৈরাচারী চক্রের মতো দলীয় অনুসারী হয়ে কাজ করছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।’
এই ঘটনায় পলাশবাড়ী উপজেলার স্থানীয় জনগণের মধ্যেও চরম মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক জানান, ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা না থাকলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাবেন না এবং সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিও বাস্তবায়িত হবে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের ভেতরে এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের এবং এটি এখন প্রকাশ্যে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের ভেতরে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং কৃষকদের স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, এমপিকে অসহযোগিতা ও উত্থাপিত গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল কোনো প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযুক্ত ইউএনওর নীরবতা এবং প্রশাসনের ভেতরে চলা এই বিরোধ নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা।