০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪১

এমপি শাহজাহান চৌধুরীর উপস্থিতিতে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি-উত্তেজনা

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ  © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা বেগম স্বপ্না ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উপস্থিতিতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির সংগঠক মো. দিদারুল হক বাপ্পি আহত হয়েছেন। এ সময় ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টংকাবতী খালের ওপর নির্মিত ৬৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজটি বৃহস্পতিবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যের উদ্বোধন করার কথা ছিল। তবে বুধবার স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ব্রিজটি উদ্বোধন করেন। এ কারণে বৃহস্পতিবার সেখানে না গিয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। দুপুর ১টার দিকে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রধান ফটকের সামনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। এতে বাপ্পি আহত হন।

আরও জানা যায়, ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় দৈনিক কালবেলার সাতকানিয়া প্রতিনিধি মো. মিনহাজ উদ্দিনের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। পরে ফোনটি ভাঙচুর করে প্রায় ২০ মিনিট পর ফেরত দেওয়া হয়। এরপর বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে গেলে সেখানেও নিজেদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় অনলাইন সাংবাদিক মাকছুদুল ইসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোন নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে ফোনটি ফেরত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

সাংবাদিক মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের সময় আমি ভিডিও ধারণ করছিলাম। একপর্যায়ে জামায়াতের কয়েকজন আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আমাকে হেনস্তা করেন। পরে ফোনটি ভাঙচুর করে প্রায় ২০ মিনিট পর ফেরত দেওয়া হয়।

সাংবাদিক মাকছুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইউএনও'র কক্ষের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করছিলেন। এ সময় আমি ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিএনপির কয়েকজন আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে এক পাশে নিয়ে আমাকে মারধর করেন। পরে তারা ভাঙা অবস্থায় মোবাইলটি ফেরত দেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান বলেন, জামায়াতের লোকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালিয়ে আমাদের এক কর্মীকে আহত করেছে। এ সময় ভিডিও ধারণকালে সাংবাদিক মিনহাজের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হেনস্তা করা হয়। ইতোমধ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাতকানিয়া পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির হামিদ উদ্দিন আজাদ বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। পরে জানতে পেরেছি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী হাসপাতালে গেলে তাকে সাক্ষাৎ করতে বাধা দেওয়া নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে ওই সময় সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে বলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যের হাসপাতাল পরিদর্শনের বিষয়ে আমাকে কোনো অফিসিয়াল চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার সকালে ইউএনও স্যার বিষয়টি জানান। পরে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করে চলে যান। বাইরে উত্তেজনার খবর পেয়ে আমি সেখানে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা সবুজ কুমার দে বলেন, সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্প স্থানীয় সংসদ সদস্যরাই উদ্বোধন করেন। তবে ব্রিজটি বৃহস্পতিবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য উদ্বোধন করবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছিল। পরে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজ উদ্যোগে নামফলক তৈরি করে বুধবার ব্রিজটি উদ্বোধন করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, হাসপাতালে কিছুটা হট্টগোল হলেও আমার কার্যালয়ে কোনো উত্তেজনা হয়নি। স্থানীয় এমপি ব্রিজটি আগে উদ্বোধন করায় সংরক্ষিত আসনের এমপি সেখানে যাননি। এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হেনস্তার বিষয়টি সার্কেল অফিসারকে জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, দু'পক্ষের মধ্যে একটু হট্টগোল হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি ও সার্বক্ষণিক নজরদারির ফলে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এরপরও পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।