স্কুলের মিটিংয়ে বসেই স্ত্রীকে চড়, বিভাগীয় ব্যবস্থার মুখে শিক্ষক
নেত্রকোণার কলমাকান্দায় বিদ্যালয়ের সভা চলাকালে সহকারী শিক্ষক স্ত্রীকে চড় মারার অভিযোগে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল আজম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. খুরশেদ আলম পোগলা ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রীও একই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনার ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে একটি সভা চলাকালে প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে খুরশেদ আলমের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তার স্ত্রী বিরোধ থামাতে এগিয়ে এলে খুরশেদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, খুরশেদ প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তর্ক করছেন। এ সময় পাশে বসা তার স্ত্রী তাকে শান্ত হতে বললে তিনি তাকে চিৎকার করে গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে চড় মারেন। পরে তাকে বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যেতে বলেন।
আরও দেখুন: চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে যুক্ত হবে নতুন চার বিষয়, কার্যকর ২০২৭ সাল থেকে
ঘটনার পর ২০ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিতেশ চন্দ্র পালের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত সোমবার প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন খানও বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল আজম গণমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যালয়ের ভেতরে অন্য একজন শিক্ষককে চড় মারা চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে অসদাচরণের শামিল। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।’
এ বিষয়ে ওই নারী শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
খুরশেদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, তিনি আট বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন এবং তার স্ত্রী প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেখানে কর্মরত।
ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ওই সময় আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।’