প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, সহকারী শিক্ষিকা অবরুদ্ধ
পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আজমের (৫৬) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর জন্য বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষককে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। এ সময় সহকারী শিক্ষক আকলিমা আক্তারকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। বিক্ষোভের কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদানসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
পরে খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা ঘটনাস্থলে যান। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে এসেছিলেন প্রধান শিক্ষক নুর আজম। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিল ফুল। হাসিমুখে সেই ফুল গ্রহণও করেছিলেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্যালয়ের পাশের দোকানে চা খেতে বসেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সম্প্রতি কমিটি করাসহ বিদ্যালয়ের নানা বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নুর আজমকে হেনস্থা ও হুমকি ধামকি দিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম ও আকলিমা আক্তার। এছাড়া রাজনৈতিকভাবেও নানা চাপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। সোমবার দুপুরে বিদ্যালয় সংলগ্ন মীরগড় বাজারে চা খেতে গিয়ে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। অবস্থা গুরুতর হলে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই শিক্ষকের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি কমিটি করা নিয়ে মানসিক চাপেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
নুর আজমের ভাগনে আব্দুস সালাম মিঠু বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম ও আকলিমা আক্তার প্রায়ই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। তারা নানাভাবে তার সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করতেন। তাদের অত্যাচারের কারণেই প্রধান শিক্ষক হঠাৎ মারা গেছেন বলে আমরা মনে করি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তদন্ত চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার ৪০ দিন আগে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তারপরে আর কোনো সমস্যা ছিলো না। এমনকি কমিটি করা নিয়ে তিনি তাকে সমর্থন দিতে বলেছেন আমি তাকেই সমর্থন দিয়েছি। তারপরেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি শ্রেণি আমাদের সম্পর্কে মব সৃষ্টি করছে
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, প্রধান শিক্ষক নুর আজমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সকালে বিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবিগুলো শুনেছি। পরে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। যে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশি সহায়তায় বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তারা আগামীকাল বিদ্যালয়ে আসবেন কি না এবং তাদের পাঠদানের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে।