মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নদীতে ঝাঁপ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ উদ্ধার
শেরপুরে প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর মৃগী নদী থেকে সৈয়দ সাদমান জয়ের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। রবিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার ভাটারাঘাট এলাকায় নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সৈয়দ সাদমান জয় স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি কুড়িগ্রামের ওহেদুন্নী ওরফে মাখন মিয়ার ছেলে। জয়ের মা সাহানাজ পারভীন শেরপুর সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে শেরপুর শহরের মধ্যশেরী বাড়ইপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে জয় এক বন্ধুকে নিয়ে ভাটারাঘাট এলাকায় মৃগী নদীর তীরে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সেখানে অভিযান চালিয়ে জয়ের বন্ধুকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযানের সময় ভয়ে জয় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিখোঁজ হন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পুলিশের সহায়তা নেন। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর রবিবার সন্ধ্যায় নদী থেকে জয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, শনিবার তাদের একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এবং একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের ভয়ে কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে থাকলে সে বিষয়ে তাদের জানা ছিল না।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার বলেন, ওই এলাকায় পুলিশের কোনো অভিযান ছিল না। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।