০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬

‘চোরাই গরু’ দিয়ে বৌভাতের আয়োজন, অতঃপর...

বৌভাতের আয়োজন   © এআই দিয়ে বানানো ছবি

ছেলের বৌভাতের অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য জবাই করা হচ্ছিল গরু। রান্নার প্রস্তুতিও চলছিল পুরোদমে। এরই মধ্যে গরুর মালিক এসে সেটি নিজের চুরি যাওয়া গরু বলে শনাক্ত করেন। মুহূর্তেই বদলে যায় বৌভাতের আয়োজনের চিত্র। শুরু হয় বাগবিতণ্ডা ও মারধর। একপর্যায়ে পুলিশ এসে বরের বাবাকে গ্রেপ্তার করে। জব্দ করা হয় জবাই করা গরুর মাংস, চামড়া, পা ও মাথা। ভণ্ডুল হয়ে যায় বৌভাতের আয়োজন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের বকশিচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম ওই গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহানের সঙ্গে শুক্রবার পাশের রুদ্রনগর গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ের বিয়ে হয়। পরদিন শনিবার সোহানদের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য পরিবারের সদস্যরা একটি গরু জবাইয়ের ব্যবস্থা করেন।

এর আগে শুক্রবার ভোরে পশ্চিম মাস্তা গ্রামের মৃত আলী শেখের ছেলে শহিদুল ইসলামের বাড়ির গেটের তালা ভেঙে গোয়ালঘর থেকে প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু চুরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে শহিদুল ও তার পরিবারের সদস্যরা গরুটির সন্ধানে বের হন। স্থানীয়রাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের জমিতে গরুর পায়ের ছাপ দেখতে পান তারা। পরে ওই ছাপ অনুসরণ করে এলাকাবাসীর সহায়তায় ভাতিজা আনারুলকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে গরুর সন্ধান করতে থাকেন শহিদুল।

একপর্যায়ে সকালে তারা পার্শ্ববর্তী রফিকুল ইসলামের বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে তখন গরু জবাই করা হচ্ছিল। গরুর মাংস, চামড়া ও মাথা দেখে সেটিকে নিজেদের চুরি যাওয়া গরু বলে শনাক্ত করেন শহিদুল ও আনারুল।

এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে রফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রফিকুলের ছেলে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনারুলের মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন আনারুল। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর শহিদুল ইসলাম মোবাইল ফোনে পুলিশকে খবর দেন। গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বরের বাবা রফিকুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সোহান ও তার ভাই রাব্বি পালিয়ে যান।

ঘটনাস্থল থেকে জবাই করা গরুর মাংস, চামড়া, পা ও মাথা জব্দ করে পুলিশ। পরে শনিবার রাতে গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রফিকুল ইসলামসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। চুরি হওয়া গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশ জব্দ করা হয়েছে। বরের বাবা রফিকুল ইসলামকে রবিবার আদালতে পাঠানো হবে।’