একই পরিবারের চারজনের দাফনে ৪ খাটিয়া, শোকে স্তব্ধ গ্রামবাসী
সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামে।
একটি পরিবারের জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে চারটি খাটিয়া। চারদিকে স্বজনদের আহাজারি, প্রতিবেশীদের ভিড় আর শোকের ভারী পরিবেশ। যে বাড়িতে একসঙ্গে ছিলেন মা, ছেলে, মেয়ে ও নাতি, সেই বাড়িতেই এখন চারজনের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ জামালপুরের ছয়জন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তার ৮৫ বছর বয়সী মা রাশিদা বেগম, ২৫ বছর বয়সী মেয়ে মর্জিনা এবং মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনাল। একই দুর্ঘটনায় নিহত অন্য দুজন হলেন- একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী ও বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী।
শনিবার (৩ অক্টোবর) তাদের দাফনের প্রস্তুতি নিতে ভাটিপাড়া গ্রামের বাড়িতে চারটি মসজিদ থেকে চারটি খাটিয়া নিয়ে আসা হয়। পাশাপাশি সাজিয়ে রাখা খাটিয়াগুলোর দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা। একটি দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের এমন মৃত্যুতে শোকাবহ হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
বাড়ির আঙিনায় একে একে জড়ো হচ্ছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা। কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, কেউ সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু স্বজনদের হারানোর এই শোকের সামনে সান্ত্বনার ভাষাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে। যে বাড়িতে মা, ছেলে, মেয়ে ও নাতির উপস্থিতিতে জীবন চলত, সেই বাড়িতেই এখন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা আর বুকফাটা কান্না।
স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ ফারাজি বলেন, আগে টেলিভিশনে দেখতাম, একই পরিবারের পাঁচ-সাতজন মারা গেছেন। আজ নিজের এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলো। বিষয়টি সত্যিই কষ্টের। আমরা পুরো এলাকাবাসী শোকে স্তব্ধ। আমার বলার ভাষা নেই।
একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে হারানোর শোক ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের গ্রামেও। স্থানীয়দের কাছে ঘটনাটি যেন অবিশ্বাস্য এক বাস্তবতা। যাদের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হতো, কথা হতো, তাদের এভাবে একসঙ্গে হারাতে হবে এমনটা কল্পনাও করেননি কেউ।
চারটি খাটিয়া, চারটি নিথর দেহ আর স্বজনদের অশ্রুসিক্ত চোখ, ভাটিপাড়া গ্রামের এই দৃশ্য যেন একসঙ্গে ভেঙে পড়া একটি সংসারের গল্প বলছে।