২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩২

সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ অনিশ্চিত, শিক্ষামন্ত্রীর কাছে গাইবান্ধার ৪১ প্রার্থীর স্মারকলিপি

স্মারকলিপি গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান  © টিডিসি

গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে ৪১ জন প্রার্থীর। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগপ্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বেড়েই চলেছে তাদের মধ্যে। অবশেষে প্রতিকার চেয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি পাঠানো হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্মারকলিপিটি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে গাইবান্ধা জেলায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে মোট ৪৫৬ জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তবে সম্প্রতি ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাঁদের মধ্যে ৪১ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি। এতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নিয়োগপত্র না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং পরবর্তী করণীয় জানতে প্রার্থীরা ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রার্থীদের দাবি, প্রশাসনিক বা যাচাই-সংক্রান্ত কোনো কারণে তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রত্যেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র না পাওয়ার প্রকৃত কারণ কী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কী এবং এ বিষয়ে তাদের পরবর্তী করণীয় কী—তা স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি।

স্মারকলিপিতে তারা আরও বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাই তাদের নিয়োগের বর্তমান অবস্থা, নিয়োগপত্র না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে লিখিতভাবে জানাতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা দুশ্চিন্তার বিষয়। কারণ, এতে একদিকে যেমন প্রার্থীদের কর্মজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজনীয় শিক্ষক থেকে বঞ্চিত হয়। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্ত জানানো প্রয়োজন।