ময়মনসিংহে হামলায় আহত সাবেক যুবদল নেতার মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৩
ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্টপুরে হামলায় গুরুতর আহত সাবেক যুবদল নেতা রাজা মিয়া (৪০) মারা গেছেন। মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২২ সেপ্টেম্বর তাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠে।
চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রাজা মিয়া নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্টপুর এলাকার মমরোজ মিয়ার ছেলে। তিনি মহানগর যুবদলের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে নগরীর কৃষ্টপুর এলাকায় রাজা মিয়াকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় তাকে আবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজা মিয়ার স্ত্রী জোসনা আক্তার কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি কবিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য দুজন হলেন বিনু ও নিশাত। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কবির ও তার লোকজনকে মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করে আসছিলেন রাজা মিয়া। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে ২২ সেপ্টেম্বর সকালে রাজা মিয়া নাস্তা খেয়ে ঘরে শুয়ে থাকা অবস্থায় কবিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন সেখানে হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার সময় শাবল দিয়ে রাজা মিয়ার মাথায় আঘাত করা হয়।
তবে পুলিশের একটি পক্ষের দাবি, দুই পক্ষই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কার নামে কতগুলো মাদক মামলা রয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন শাকিল বলেন, ‘রাজা মিয়া মহানগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আন্দেলন সংগ্রামে সবসময় দলের সাথে ছিল।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ মর্গে আছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।