২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৪

থানার কাছেই মিরপুরে গুঁড়িয়ে দেওয়া সেই টিকাকেন্দ্র, যা বললেন পুলিশ কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।  © সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে ঘটনার সময় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি বলেন, থানার কাছেই জনাকীর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে একটি স্থাপনা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা (মোসালেহ্) বলেন, ‘জি, এটা অবশ্যই একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়, আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন। আমাদের এই ধরনের একটি জনাকীর্ণ জায়গায়, একটি বিল্ডিং এটা তো নিশ্চয়ই অনেকক্ষণ সময় ধরে বেশি—এটা যে ভাঙচুর হয়েছে, আমি আজকে পরিদর্শন করে যেটি দেখলাম, তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে এটা আধা ঘণ্টা, এক ঘণ্টায় এতটুক করা সম্ভব নয়। এটা একটু সময় নিয়েই এটা করা হয়েছে, বিশেষ করে যেগুলো টিনশেড আছে, দুই পাশে টিনশেডগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভাঙা হয়েছে এবং যে বিল্ডিং যেটা, বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন জায়গায় আমি ভাঙচুরের আলামত সেটা দেখতে পেয়েছি। এবং এটাও আমি জানতে পেরেছি যে বিল্ডিংয়ের মধ্যে যে সমস্ত উনাদের রাডারের যে ইকুইপমেন্ট যেগুলো ছিল, যন্ত্রপাতি ছিল, সে সেগুলো অনেকগুলো যন্ত্রপাতি পাওয়া যাচ্ছে না, সেই যন্ত্রপাতিগুলো নিয়ে গেছে, আমার কাছে তারা যেটা বলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘তো আমরা ঘটনা আমাদের নলেজে আসার সাথে সাথে আমি ডিসি মিরপুরকে ইন্সট্রাকশন দিয়েছি এবং মামলা রেকর্ড হয়েছে এবং আমরা চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। তো আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার, সেই ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি এবং অন্যান্য আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করার জন্য আমাদের কঠোর নির্দেশনা আছে। যারা এখানে জড়িত আছে, আমাদের আসামি ২০০-২৫০ জনের—একজনের নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ অজ্ঞাতনামা আসামি এখানে মামলা হয়েছে। তো আমরা যার নামে, যে একজনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা চেষ্টা করছি, আমরা আশা করছি খুব দ্রুত আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে পারব। পাশাপাশি অন্যান্য যারা জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে আমরা চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। আমরা আমাদের অফিসার এবং ফোর্স সবাই অভিযানে আছে, আমরা খুব দ্রুত তাদেরকেও গ্রেপ্তার করতে পারব।’

পুলিশের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি ঠিকই বলেছেন, এটা এই ধরনের একটি ঘটনা প্রিভেন্ট করা—এটা তো অবশ্যই পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তো আমরা দেখছি যে আমাদের পুলিশের এই ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা ছিল কি না। এটা আপনি জানেন, রাত্রে প্রায় পৌনে দুইটায়, প্রায় পৌনে দুইটার সময় এই ঘটনা ঘটেছে। এবং যেহেতু এটা গভীর রাতের ঘটনা, তো আমরা দেখছি যে পুলিশ জানার পরেও পুলিশ এখানে সময়মতো এসেছিল কি না এবং তাদের পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা আছে কি না, এই বিষয়গুলো আমরা দেখছি। এবং আমরা ইতোমধ্যে আমাদের এডিসি দারুস সালামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এই তদন্ত কমিটি আজকের মধ্যে আমাদেরকে রিপোর্ট দেওয়ার কথা, আমরা বলেছি। এবং এই রিপোর্ট প্রাপ্তিসাপেক্ষে আমরা পুলিশের কোনো সদস্য যদি এখানে অবহেলা থাকে, গাফিলতি থাকে, সেটা আমরা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিব।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা (মোসালেহ্) বলেন, ‘আজকে, আজকে।’

সাংবাদিক আবার জানতে চান, ‘একদিনের?’

জবাবে তিনি বলেন, ‘আজকে, আজকে। তো আমরা কোনো দল দেখব না, কোনো মত দেখব না। আমরা সবসময় দেখব অপরাধীকে। অপরাধী যে, তাকেই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। তো আমরা সবসময় একটি ব্যাপারে সজাগ আছি যে কোনো ধরনের বেআইনি কার্যক্রম, কোনো দখল, কোনো বেআইনি কার্যক্রম, আইনবহির্ভূত কার্যক্রম, সেটা কেউই করতে পারবে না। সেটা যেই করবে, তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। এখানে আমাদের অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা উচিত। আমরা অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখব না এবং অপরাধীর কোনো সামাজিক পরিচয় দেখব না।’

সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আপনি ইতোমধ্যে বলেছেন যে আপনি অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখবেন না। কিন্তু যেই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক অভিযোগ, তাহলে তাকে কি...’

জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা (মোসালেহ্) বলেন, ‘না, অভিযোগ আমরা তো এর মধ্যে মামলা হয়েছে। আমরা মামলা তদন্ত করছি এবং মামলা তদন্তে এই এই ঘটনায় যারাই জড়িত, তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’

এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, মুখোশধারী ২৫০ জনের বেশি ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

রাড্ডা কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা ক্লিনিকের ওষুধ, ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ফ্রিজ, এসি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ঘটনার পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়। মামলায় একজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।