সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৫০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা থেকে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় সাড়ে ৩০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও পুরস্কৃত করেছে আলহাজ্ব সফিয়া মমতাজুল হক বাশার ট্রাস্ট।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটে অবস্থিত সাতকানিয়া রিসোর্ট কমপ্লেক্সের হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলহাজ্ব সফিয়া মমতাজুল হক বাশার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল বাশার আবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ।
এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিউল্লাহ কুতুবী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নুরুল আলম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেব, হাবিবুল উলুম ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপার মাওলানা নুরুল আলম ফারুকী, আলহাজ্ব সফিয়া মমতাজুল হক বাশার ট্রাস্টের সহসভাপতি মো. আবু তাহের, সৌদি আরবের মক্কা অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. হারুনুর রশীদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী নুরুল আলম এবং রাজনীতিবিদ আব্দুর রহিম চৌধুরীসহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রাজীব দাশ পুরকায়স্থ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও এটিই শেষ লক্ষ্য নয়। এই সাফল্যকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে। ভবিষ্যতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিজ নিজ ক্ষেত্রে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, জীবনে সাফল্যের পথে নানা ধরনের প্রতিকূলতা আসতে পারে। তাই কোনো ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। শিক্ষার্থীদের সময়ের সঠিক ব্যবহার করে উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা অত্যন্ত জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল বাশার আবু বলেন, আজকের এই অর্জন শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের ফল। এখান থেকেই তাদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু। আগামী দিনে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অধ্যবসায়, নৈতিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। মেধার সঙ্গে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে প্রকৃত অর্থে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাহস না হারিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
পরে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদ, প্রাইজবন্ড ও আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মধ্যাহ্নভোজ শেষে অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়।