ভোলায় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন
২০১৩ সালের জাতীয়করণের গেজেট থেকে বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণসহ তিন দফা দাবিতে ভোলার চরফ্যাশনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপজেলা সভাপতি মো. ইব্রাহিম।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালে দেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের সময় বিভিন্ন কারণে ৪ হাজারের বেশি বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতা থেকে বাদ পড়ে। তাদের দাবি, এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশই প্রত্যন্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চললেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
বক্তারা জানান, ৯ জানুয়ারি ২০১৩ সালের ঘোষণার আলোকে ২০১২ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত, জমির দলিল থাকা এবং পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করা বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আওতায় রাখার কথা ছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, সারা দেশের প্রায় ৩১ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে উপজেলা পর্যায় থেকে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের তথ্য পাঠানো হয় এবং সেগুলো জাতীয়করণের আওতায় আসে। তবে ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় বাদ পড়ে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুব আলম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদের মূল্যবোধ ও মানবিকতা গঠনের অন্যতম ভিত্তি। জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা এক যুগের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসছেন, কিন্তু এখনো এ বিষয়ে স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাদপড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সরকারি উপবৃত্তিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশ প্রত্যন্ত গ্রাম ও দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। নিম্নআয়ের পরিবারের অনেক শিশু এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। তাদের সরকারি উপবৃত্তিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও দাবি করেন, ২০১৩ সালের গেজেট থেকে বাদ পড়া বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে এবং এসব বিদ্যালয়কে কেজি নীতিমালার আওতায় নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা থেকে বাদ রাখতে হবে।
এ সময় ভোলা জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. ছালাহ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদ উল্লাহ, আইনবিষয়ক সম্পাদক মোসাঃ সাকিয়া, মো. মিজানুর রহমান, মো. ইলিয়াছ, মো. শাহিন আলাল ও মো. জসিম উদ্দিনসহ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
মানববন্ধন শেষে ২০১৩ সালের জাতীয়করণের গেজেট থেকে বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ, শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ এবং উপবৃত্তিসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান শিক্ষকরা।