দেশবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন চালিয়ে গত ১৬ বছর বাকশালী স্টাইলে দেশের জনগণকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তার অভিযোগ, বিনা ভোটে ক্ষমতা দখলে রেখে দলটি জাতির ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র ও সহিংস কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আ'লীগ একদলীয় শাসন চালিয়ে বিগত ১৬ বছর বাকশালী স্টাইলে দেশের জনগণকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। এরা গায়ের জোরে বিনাভোটে ক্ষমতা দখলে রেখে জাতির উপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। তাদের নেতা যেমনিভাবে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা ও জনগণের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সেই একইভাবে বিএনপি এবং ভিন্নমতের নেতাকর্মীদের গুম,অপহরণ ও হত্যা করেছে। মিথ্যা মামলায় আয়নাঘরে ও জেলে আটকে রেখে অগণিত মানুষের জীবন ও পরিবার বিপন্ন করেছে।’
সমাবেশ শেষে ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর স্টেশন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি এ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘মূলত: আ'লীগ একটি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সংগঠন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটির নেতারা বিদেশে বসে নিজ দেশে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। কতটা নির্লজ্জ হলে মাতৃভূমিকে অশান্ত করতে এমন আত্নঘাতি কাজ করতে পারে ? এদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। শান্তিপ্রিয় জনগণ তাদের সহিংস তৎপরতার সমুচিৎ জবাব দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আ'লীগ ক্ষমতায় থাকলেও দু:শাসন, জুলুম নিপীড়নে দেশের মানুষ কষ্ট পায়, তারা ক্ষমতার বাইরে গেলেও দেশকে অস্থিতিশীল করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। আ'লীগ সরকার বিগত ১৬ বছরে গণতন্ত্র, অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে পালিয়েছে।’
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, ‘দেশের জনগণ সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদে থাকুক, আ'লীগ তা কখনই চায় না। একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা ও জনগণের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন ও বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলো। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে দেশে টেকসই উন্নয়ন, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সীমিত আয়োজন, রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন, সংযম ও দায়িত্ববোধ এক ভিন্নমাত্রার রাজনৈতিক দর্শনে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান দুর্নীতি ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নজিরবিহীন শিষ্টাচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জনগণের দৃষ্টি কেড়েছেন। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।’
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ‘তারেক রহমানের মানবিকতা,মমত্ববোধ,দেশপ্রেম অসাধারণ।এমন একজন নন্দিত সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে বিরোধী জোট কটূক্তি করছে। যা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক ও অনভিপ্রেত।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ'লীগ নেতারা বিদেশে বসে সন্ত্রাস ও সহিংসতার হুমকি দিচ্ছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দু:খজনক।’
সমাবেশে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওসমান গণি ভূইয়া, সুফিয়া আক্তার ও অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বাবু, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম.এ লতিফ ভূইয়া, সদস্যসচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব জসিমউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, সদস্যসচিব কাউসার আলম সরকার, মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, সদস্যসচিব এস.এম সালাহউদ্দিন সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক দিলারা শিরীন, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিমউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ও তিতাস উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন সরকারসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে ড. খন্দকার মারুফ হোসেন জনগণের জানমাল এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও অশুভ তৎপরতা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।