জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ি ভাঙচুর, মারধরের অভিযোগ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার লেবুবুনিয়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও মারধরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। জমি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই ভাঙচুরের এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লেবুবুনিয়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বশির নিজের ক্রয় করা জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। মঙ্গলবার ভোররাতে তাঁর ওই বসতঘরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম বশিরের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আদালতে বাঁটোয়ারা মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে মামলার বাদী আল আমিন আকন তাঁর সীমানার টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করলে প্রতিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এর জের ধরে মঙ্গলবার ভোররাতে মাসুদ আকন ও আল আমিন আকনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন লোক এসে তাঁর বসতঘরে ভাঙচুর চালায়।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের সময় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যস্ত থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে তাঁদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায় বলে তাঁর দাবি।
তবে ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষের মাসুদ আকন। তাঁর দাবি, জাহিদুল ইসলাম তাঁদের পৈতৃক জমির বেশি অংশ জবরদখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিস-বৈঠক হয়েছে এবং রায়-রোয়েদাদে তাঁদের জমি পাওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও জাহিদুল তা মানছেন না।
মাসুদ আকন বলেন, ‘জাহিদুল নিজেই নিজের ঘর ভেঙে এখন আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। রাতে ভাঙচুরের শব্দ শুনে আমরা সেখানে গেলে জাহিদুল ও তাঁর লোকজন আমার ছোট ভাই আল আমিন আকনকে মারধর করেন। ওই সময় ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ আমাদের থানায় আসার পরামর্শ দেয়। পরে সকালে থানায় বিষয়টি জানিয়ে আমার ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।’
মারধরে আহত আল আমিন আকন বর্তমানে কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু নাছের রায়হান জানান, উভয় পক্ষকে তাঁদের জমিজমা সংক্রান্ত সব কাগজপত্র নিয়ে থানায় দেখা করতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিষয়টি তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমির মালিকানা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ থাকায় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।