২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৪১

তুহিনকে নিয়ে ফাহাদই প্রথম তথ্য দেয় অপ্রতিমের বাবাকে, সহযোগিতা করেন খুঁজতেও

ফাহাদ ও অপ্রতিম   © সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের কাছে তুহিনের বিষয়ে প্রথম তথ্য দেন মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ। শুধু তথ্য দেওয়াই নয়, অপ্রতিমকে খুঁজতেও তিনি সহযোগিতা করেন। এ কারণে শুরুতে অপ্রতিমের পরিবার ফাহাদকে সহযোগী হিসেবেই দেখেছিল।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘অপ্রতিমের নিখোঁজের পর রাতে আমি ফাহাদকে ফোন করে জিজ্ঞেস করি, সে অপ্রতিমকে দেখেছে কি না। সে জানায়, অপ্রতিমের সঙ্গে তার দেখা হয়নি। তবে তুহিন নামে একজনের কথা বলে এবং জানায়, তুহিন অপ্রতিমের পরিচিত। পরে ফাহাদ তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে এবং আমাকে বিভিন্ন তথ্য দেয়। এমনকি তাদের একটি গ্রুপে অপ্রতিমকে পাওয়া যাচ্ছে না—এমন বার্তাও দেওয়া হয়। তখন আমাদের কাছে ফাহাদকে সহযোগিতাকারী হিসেবেই মনে হয়েছিল।’

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নিতে ধস্তাধস্তির সময় অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে প্রথমে আঘাত করেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)। এরপর ফাহাদ এবং পরে মো. কামরুল হাসান (১৬) অপ্রতিমকে আঘাত করেন। তারা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দোষ স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল জানিয়েছেন, অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। অপ্রতিমের বাবাও একই ধারণা করছেন। এ ঘটনায় তার অন্য কোনো অভিযোগ নেই।

অপ্রতিমের পরিবারের কাছে তুহিনের তথ্য দেওয়ার আগে ফাহাদ তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেছিলেন। অপ্রতিমের বাবা জানান, দুই সপ্তাহ আগে ১৪ হাজার টাকা মাসিক বেতনে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজে যোগ দেন ফাহাদ। তবে তার সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র হয়নি।

কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘ফাহাদ ২ সেপ্টেম্বর তার বাবা-মাকে নিয়ে আমাদের অফিসে এসেছিল। আমাদের এখানে ডেলিভারি ও ফিল্ড পর্যায়ে কাজের জন্য লোক প্রয়োজন ছিল। আমরা তাকে বলেছিলাম, বিশ্বস্ত হলে কাজে নেওয়া হবে। তবে প্রথমে তার কাজের ধরন ও পরিস্থিতি বুঝে এক মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি করার কথা ছিল। এর মধ্যে সে আমাদের সঙ্গে কাজ করছিল এবং তার কাজ ও আচরণ ভালোই ছিল।’

ফাহাদের সঙ্গে অপ্রতিমের আগে থেকেই পরিচয় ছিল কি না, সে বিষয়েও কথা বলেন তার বাবা। তিনি বলেন, ‘আমি ফাহাদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, অপ্রতিমকে চেনে কি না। সে জানিয়েছিল, একটি গ্রুপের মাধ্যমে অপ্রতিমকে চেনে এবং তাকে ভালোভাবেই চেনে।’

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে ফাহাদের যোগাযোগ এবং সহযোগিতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তবে পরদিন তার ফোন নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘পরদিন ফাহাদের ফোন নেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমকে দেখা যাওয়ার বিষয়টি সামনে এলে ফাহাদই ছবির ব্যক্তিকে তুহিন হিসেবে শনাক্ত করে। পরে জানতে পারি, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের স্থানের দিকে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলে তিনজনের সঙ্গে ফাহাদও ছিল। সেখানে গিয়ে সে অসুস্থ বোধ করছে বলে সরে যায়। এরপর তার নম্বর থেকে তুহিনের নম্বরে ফোন করা হয়েছিল বলে আমরা জানতে পারি। ওই ফোনের সূত্র ধরেই পরে ফাহাদকে আটক করা হয়।’

অপ্রতিমের সন্ধানে ফাহাদসহ কয়েকজনের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানিয়ে তার বাবা বলেন, ‘আমরা শুরুতে ফাহাদসহ কয়েকজনের কাছ থেকেই অপ্রতিমের সন্ধানে সহযোগিতা পাচ্ছিলাম। তাই তাদের কারও বিরুদ্ধে এমন কোনো সন্দেহ আমাদের মাথায় আসেনি। আমার সন্তান মারা গেছে। কিন্তু এর কারণে কোনো নির্দোষ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—এটাই আমার চাওয়া। তদন্তে যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, তাদের শনাক্ত করা হোক।’

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার সময় নিয়েও নিজের ধারণার কথা জানিয়েছেন তার বাবা। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ঘটেছে বলে আমার ধারণা। কারণ রাত ১০টার দিকে আমি ফাহাদের বাসার কাছে গিয়ে তাকে বাইরে আসতে বললে সে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কাছে আসে এবং অপ্রতিমকে খুঁজতে সহযোগিতা করে।’