‘আমিই ছিলাম তার দাবার শেষ গুটি’— এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রীর শেষ চিঠি
গাড়িচালকের বসানো সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল হতেই প্রকাশ্যে আসেন নৈতিকস্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুন। সেসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয় এমপি গাজী নজরুলের সঙ্গে তার অসম বিয়ের ব্যাপারটি নিয়ে। সেই সমালোচনা-ট্রল কমে আসলেও গতকাল রবিবার রাতে এমপির সরকারি বাসভবনে আত্মহত্যা করে ফের আলোচনায় আসেন এমপি নজরুল ও তার স্ত্রী।
কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী- সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে। এরইমধ্যে ন্যাম ভবনে সেই এমপির বাসভবন থেকে বেশ কয়েকটি চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। যেখানে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ‘অবহেলা’ ও ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে সেসব চিঠি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। পাঠকদের জন্য সেসব চিঠি হুবহু নিচে দেওয়া হলো:
চিঠিতে মৃত্যুর আগে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সে (গাজী নজরুল) ছিল অন্য নারীর স্বামী, কাগজে কলমে তার অধিকার ছিল তার বউ এর। আর আমি ছিলাম বোকা....! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ....!!!, কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়। ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ না হয় অসম্পূর্ণ।
আরেক চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘ সে বলেছিল আমরা বন্ধু, চলো আমরা একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো আমিই ছিলাম তার দাবার শেষ গুটি।’
আরেকটি চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলেই তোমার কাছে বারবার নত হই.... না হয় যতোটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই।’
জাতীয় সংসদের প্যাডে আরেক চিঠিতে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি লেখেন, ‘আমি হেরেছি তুমি জিতেছো। কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ। আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে। জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষদলের সেনাপতি।