২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০৩

‘শুক্রবারও অপ্রতিম আমাদের সঙ্গে নামাজ পড়েছিল, কে জানত সেটাই শেষ দেখা’

অপ্রতিমের বন্ধুরা   © সংগৃহীত

শুক্রবার বন্ধুদের সঙ্গে নামাজ পড়েছে, আগের দিনও কোরআনিক ক্লাবে সময় কাটিয়েছে, ফুটবল খেলেছে অপ্রতিম। কিন্তু রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সেই বন্ধুরাই তাকে শেষ বিদায় জানালেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সহপাঠীরা।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে কোটবাড়ি বাগমারা কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়। প্রিয় বন্ধুকে আর কখনো ক্লাসে দেখতে পাবেন না—এ কথা যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহপাঠীরা।

অপ্রতিমের এক বন্ধু বলেন, ‘শুক্রবারও অপ্রতিম আমাদের সঙ্গে নামাজ পড়েছিল। নামাজ পড়ার পর বলেছিল, সে বাড়িতে যাবে। এরপর বাড়িতে চলে যায়। কে জানত, সেটাই শেষ দেখা।’

আরেক বন্ধু বৃহস্পতিবারের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা বৃহস্পতিবার কোরআনিক ক্লাবের সময় একসঙ্গে ছিলাম। সেখানে কোরআনিক ক্লাব করছিলাম। তখনই শেষবার তার সঙ্গে কথা হয়। আমরা ফুটবলও খেলেছিলাম। এরপর কথা বলতে বলতে বাসায় এসেছিলাম।’

শেষবারের কথোপকথনের স্মৃতি মনে করে আরেক বন্ধু বলেন, ‘আমি শেষবার ফুচকা খেতে যেতে চেয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘না, আমি ফুচকা খাব না। টাকা নেই।’ এটাই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা।’

অপ্রতিমের বন্ধু নাসিম বলেন, ‘আমার বন্ধুকে আর ক্লাসে দেখবো না। এই অনুভূতিটা আসলে বলে বোঝানোর মতো না। আমরা আর কোনো বন্ধুকে হারাতে চাই না।’

বন্ধুরা বলেন, একজনকে হারালে শুধু একটি পরিবার নয়, তার পুরো বন্ধুমহল ও স্কুলও একজনকে হারায়। তাদের ভাষ্য, আজ অপ্রতিমের সঙ্গে এমন হয়েছে, কাল অন্য কারও সঙ্গেও এমন হতে পারে। তাই আর কোনো পরিবার বা বন্ধুমহলকে যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।

তারা আরও বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার বিচার না হলে, অপরাধীরা শাস্তি না পেলে বারবার এমন ঘটনা ঘটবে। আমরা চাই, অপ্রতিমের সঙ্গে যা হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার হোক। আর কোনো মায়ের সন্তান যেন এভাবে হারিয়ে না যায়।’

দাফন শেষে অপ্রতিমের বন্ধুরা দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান। প্রিয় বন্ধুকে হারানোর শোকের পাশাপাশি তাদের কণ্ঠে ছিল এমন ঘটনা আর কারও জীবনে না ঘটার আকুতি।