২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯

আজ বউকে প্রশংসা করার দিন

স্বামী-স্ত্রী   © সংগৃহীত

সংসারের ব্যস্ততায় কাছের মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অনেক সময় হয়ে ওঠে না। প্রতিদিনের কাজ, অফিস, সন্তান আর নানা দায়িত্বের ভিড়ে ভালোবাসার কথাটিও যেন হারিয়ে যায়। তাই বছরে একটি দিন হলেও জীবনসঙ্গীর যত্ন, ভালোবাসা ও অবদানের কথা মনে করিয়ে দিতে পালিত হয় ‘ওয়াইফ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে’ বা স্ত্রীর প্রশংসা দিবস। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় রবিবার পালিত হওয়া দিবসটি আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর)।

দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর অবদান, ভালোবাসা ও ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া। এটি কোনো সরকারি ছুটির দিন নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দম্পতিরা নিজেদের মতো করে দিনটি পালন করেন।

ওয়াইফ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে ঠিক কবে এবং কার উদ্যোগে শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না। ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডারও দিবসটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা শুরুর বছর নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে বিভিন্ন সূত্রে ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে দিবসটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার তথ্য পাওয়া যায়। কিছু সূত্রে ২০০৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটি পালনের কথা বলা হলেও এটিকে নিশ্চিত প্রতিষ্ঠাবর্ষ বলা যায় না।

দিবসটির সঙ্গে একটি প্রচলিত ব্যাখ্যাও রয়েছে। মা দিবসে সন্তান থাকা মায়েদের গুরুত্ব দেওয়া হলেও সন্তানহীন বিবাহিত নারীদের আলাদাভাবে উদ্‌যাপনের সুযোগ ছিল না—এমন ধারণা থেকেই স্ত্রীদের জন্য আলাদা করে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর দিনটির প্রচলন হয়েছে বলে বলা হয়। সময়ের সঙ্গে অবশ্য দিবসটির পরিধি বেড়েছে। এখন সন্তান থাকুক বা না থাকুক, সব স্ত্রীকেই ভালোবাসা ও সম্মান জানানোর উপলক্ষ হিসেবে দিনটি পালিত হয়।

একটি সংসার শুধু চার দেয়ালের ঘর নয়। সেখানে থাকে ভালোবাসা, অভিমান, দায়িত্ব, ত্যাগ আর অসংখ্য না-বলা গল্প। পরিবারের কাজ, সন্তানদের দেখাশোনা, স্বামীর পাশে থাকা কিংবা নিজের ক্লান্তি আড়াল করে পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটানোর মতো অনেক কাজই হয়তো আলাদা করে প্রশংসা পায় না।

এই জায়গা থেকেই দিবসটির গুরুত্ব। নিয়মিত দায়িত্ব হিসেবে দেখা অনেক কাজের পেছনেও যে ভালোবাসা ও শ্রম থাকে, তা স্বীকার করার সুযোগ তৈরি করে দিনটি। দামি উপহার নয়, আন্তরিক প্রশংসা কিংবা কৃতজ্ঞতার একটি কথাও হতে পারে উদ্‌যাপনের সবচেয়ে সুন্দর উপায়।

আজ স্ত্রীকে ফুল দেওয়া, পছন্দের খাবার রান্না করা, বাইরে খেতে যাওয়া কিংবা একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর মতো ছোট আয়োজন করা যেতে পারে। চাইলে ছোট একটি চিঠি লিখেও জানানো যায়, তার করা ছোট ছোট কাজগুলো চোখে পড়ে এবং তার অবদানের মূল্য বোঝা হয়।

প্রিয় মানুষটিকে বলা যেতে পারে, ‘তুমি আমার জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ অথবা, ‘আমার জীবনে তোমার মতো একজন মানুষ আছে, এটাই আমার বড় পাওয়া। তোমাকে পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।’

তবে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বিশেষ দিনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের যত্ন, সম্মান ও কৃতজ্ঞতাই দাম্পত্য সম্পর্ককে আরও সুন্দর করে। তবু এমন একটি দিন যদি ব্যস্ততার মাঝেও জীবনসঙ্গীর প্রতি একটু বেশি যত্নশীল হওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়, তাহলে এর গুরুত্বও কম নয়।