১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪২

বিএনপি নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের, পরের দিন ওসির বদলি

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম  © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ঠিকাদারি সমিতির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই বিএনপি নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হওয়ার একদিনের মাথায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বদলি করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বদলি করা হয়।

ওই অফিস আদেশে সাতকানিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বদলির পাশাপাশি চাঁদপুর জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে চট্টগ্রাম জেলায় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এ.কে.এম. সফিকুল আলম চৌধুরীকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় বদলি করা হয়েছে।

আদেশে তাদেরকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ২৩ সেপ্টেম্বর তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে দুই ঠিকাদারি সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে মো. আব্দুল কাদের সিকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা আফিল উদ্দিন আহমদ, মো. সাইফুল ইসলাম, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা ইলিয়াছ বাবুল এবং এলডিপি ঘনিষ্ঠ কামাল উদ্দিন চৌধুরী বাঁচাসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সাতকানিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ হাশেম রাজুকে সাক্ষী করা হয়।

এজাহারে বিবাদীদেরকে এলডিপি ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা এলডিপি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের কার্যালয়ের সামনে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, নাশকতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে মিছিল করেন। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়। পাশাপাশি ওই কার্যালয়ে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের ছবি সংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে পায়ের নিচে দিয়ে উল্লাসের অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে মামলার আসামিদের দাবি, রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত নন। মূলত চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের ঠিকাদারদের দুটি সমিতির বিরোধের জেরে তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তারা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মামলার বিবাদীরা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তারা মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন দাবি করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার দাবি জানান।

মামলার ১ নম্বর আসামি আফিল উদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, পুলিশ কোনো প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই মধ্যরাতে এমন গুরুতর আইনে মামলা করেছে। অপরদিকে, ৩ নম্বর আসামি ইলিয়াছ বাবুলের দাবি, মামলায় উল্লিখিত ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের ঠিকাদারদের মধ্যে দুটি অনিবন্ধিত সমিতি রয়েছে। একটি সমিতির সভাপতি চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ হাশেম রাজু। অপর সমিতির সভাপতি মামলার আসামি আফিল উদ্দিন আহমদ। মামলার অপর দুই আসামি সাইফুল ইসলাম ওই সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ইলিয়াছ বাবুল সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।