শার্শা-বেনাপোলে কুকুরের কামড়ে দুই মাসে আহত ৬ শতাধিক, আতঙ্কে শিশু-অভিভাবক
যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে গত দুই মাসে শিশুসহ ৬ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আক্রান্তদের চিকিৎসা নিতে ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে। কুকুরের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন শিশু ও অভিভাবকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও বেনাপোল পৌর এলাকার বিভিন্ন হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও মোড়ে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেওয়ারিশ কুকুর। পথচারীদের দেখলেই অনেক ক্ষেত্রে তাড়া করছে এসব কুকুর। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে অভিভাবকদের। কুকুরের ভয়ে অনেক শিশুই একা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে।
কায়বা ইউনিয়নের দীঘা চালিতাবাড়ীয়ার আবদুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় এলাকায় কুকুরের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে কিছু কুকুর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও জনবসতিতে দলবদ্ধ কুকুরের বিচরণে আতঙ্ক আরও বাড়ছে।
কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নিজামপুর ইউনিয়নের গৌড় পাড়া গ্রামের মেহেদী বলেন, ‘এলাকায় কুকুরের উৎপাত অনেক বেড়ে গেছে, বিশেষ করে গ্রামের দিকে ছোট বাচ্চাদেরও কুকুর তাড়া করছে এবং কামড়াচ্ছে। আমাকেও একটি কুকুর কামড় দিয়েছে, তাই ভ্যাকসিন নিতে হাসপাতালে এসেছি। আশপাশের অনেক মানুষও কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে কুকুরের উৎপাত নিয়ন্ত্রণ করুক।’
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ বলেন, গত দুই মাসে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে এসেছেন। আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারিভাবে সরবরাহ করা ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই। কুকুরে কামড়ালে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে আসার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আক্রান্ত স্থানটি অন্তত ১৫ মিনিট ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেললে ভাইরাসের তীব্রতা অনেকটা কমে যায়।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, বেওয়ারিশ বা পাগলা কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই পোষা কুকুরকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার পাশাপাশি অপরিচিত কুকুর থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে কুকুরের আক্রমণের আশঙ্কায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় ব্যক্তিদের। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন শিশুদের অভিভাবকেরা। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে শার্শা ও বেনাপোল এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।